Advertisement
E-Paper

বাড়ি যাব, হাসিনাকে চিঠি দিল কিশোরেরা

মা বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার আকুল আর্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিল ৪১ জন শিশু ও কিশোর। অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাংলাদেশের ওই শিশু কিশোরদের উদ্ধার করার পর তাদের এখন ঠিকানা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের শুভায়ন হোম।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৬ ০২:৩৪

মা বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার আকুল আর্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিল ৪১ জন শিশু ও কিশোর। অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাংলাদেশের ওই শিশু কিশোরদের উদ্ধার করার পর তাদের এখন ঠিকানা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের শুভায়ন হোম। বিচারপর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরও কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় থেকে দু’বছর। সরকারি হোমের চার দেওয়ালে আটকে থেকে হাঁফিয়ে উঠেছে নাবালক ওই শিশু কিশোরেরা।

বিনা অপরাধে আর কতদিন তারা হোমে আটকে থাকবে, প্রশ্ন তুলেছে অস্থির হয়ে ওঠা ওই শিশু কিশোরের দল। বাড়ি ফিরতে চেয়ে রবিবার সকাল থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে হোমে অনশন শুরু করে তারা। তাদের নিজের দেশে ফেরানোর সমস্ত রকম প্রক্রিয়া আগেই শেষ হয়েছে বলে হোম সুপার ও চাইল্ডলাইনের প্রতিনিধিরা নথি দেখিয়ে বোঝানোর পর রাতে তারা অনশন তুলে নেয়। এরপরই সোমবার ওই শিশু কিশোররা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তাদের দেশে ফেরানোর আর্তি জানিয়েছে।

এ দিন সমাজকল্যাণ দফতর পরিচালিত শুভায়ন হোমের সুপার দাওয়া দর্জি শেরপা জানান, হোমের আবাসিক মোট ৪৭ জন বাংলাদেশি শিশু কিশোরের মধ্যে ৬ জনের জুভেনাইল কোর্টে শুনানি চলছে। বাকি ৪১ জনের বিচার অনেকদিন আগেই শেষ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হোমের ওই শিশু কিশোরদের বাড়ি ফেরাতে তাঁদের পরিচয় ও ঠিকানা দিয়ে বছর খানেক আগে থেকে সে দেশের হাইকমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে পর পর চিঠি পাঠানো হলেও সাড়া মিলছে না। হোম থেকে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট টাস্ক-ফোর্সকেও নিয়মিত রিপোর্ট পাঠানো হয়। ওই হোমে ভিন দেশের নাগরিক শিশু কিশোরের পাশাপাশি দুঃস্থ ও অনাথ ৬০ জন শিশু কিশোর আলাদা ভবনে থেকে লেখাপড়া করে। তাদের সঙ্গে হোম চত্বরের মধ্যে পাশের একটি বাড়িতে বর্তমানে বাংলাদেশি শিশু কিশোর রয়েছে আরও ৪৭ জন।

সমাজকল্যাণ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, সরকারি ওই হোমটিতে মোট আসন সংখ্যা ১০০টি। অথচ আবাসিকের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার উপর রবিবার রাতে ফের বালুরঘাট রেলস্টেশন থেকে ১০ থেকে ১৭ বছরের আরও ৬ জন বাংলাদেশি কিশোর ধরা পড়ে ওই হোমের আশ্রয়ে যাওয়ায় ভিড় আরও বেড়েছে। অথচ নিয়মমত ধৃত নাবালকেরা দোষ কবুল করার সঙ্গে সঙ্গে জুভেনাইল কোর্ট থেকে তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ওই শিশু কিশোরদের সে দেশের নাগরিক মেনে নিয়ে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সায় না দেওয়ার জেরেই সমস্যা তৈরি হয়।

সেই সমস্যার জটেই আটক ওই শিশু কিশোরেরা শেষপর্যন্ত তাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়ে বলেছে, ‘‘আমরা বিনা পাসপোর্টে কেউ এপারে বেড়াতে এসে, কেউ কাজের খোঁজে এসে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছি। প্রায় দু’বছর ধরে বাবা মা ও পরিবারের থেকে বিছিন্ন হয়ে আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও মনোকষ্ট নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আপনি শীঘ্রই আমাদের নিজের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন।’’

তারপরেই শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ওই কিশোরদের প্রহর গোনা। হোমে আটক ৪৭ জন বাংলাদেশি শিশু কিশোরের আবেদনে সাড়া মেলে কিনা, সেই দিকে অধীর আগ্রহে চেয়ে রয়েছেন চাইল্ডলাইন ও সিডব্লিউসি কর্মীরাও।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy