হাতে সময় পাঁচদিন। লক্ষ্য এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০টি প্রকল্পের কাজের সূচনা করা। তারই জোর প্রস্তুতি চলছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরে।
যে কোনও দিন লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যেতে পারে ধরে নিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্তরবঙ্গের আট জেলায় নতুন এই প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করতে মরিয়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। সেজন্য ইতিমধ্যেই দফতরের অন্দরে চলছে জোর তৎপরতা। দফতরের কর্তাদেরই একাংশ জানাচ্ছেন, একবার নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গেলে প্রকল্পগুলির দীর্ঘদিন ঝুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেজন্যই আগামী পাঁচদিনের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজ প্রকল্পগুলির কাজের সূচনা করে দিতে চাইছেন খোদ দফতরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। যদিও বিরোধীরা অবশ্য একে নির্বাচনী চমক বলছেন।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর সূত্রের খবর, চলতি আর্থিক বছরে উত্তরবঙ্গের আট জেলায় ৩০০-টিরও বেশি প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে দফতর। সেই কাজগুলিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর বাইরেও এই আট জেলার জন্য আরও অনেক প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলির টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া ৪০টি প্রকল্পের ক্ষেত্রে দ্রুত ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগেই কাজ শুরু করে দিতে চাইছে দফতর। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে আর দেরি নেই। হয়তো ৭ ফেব্রুয়ারির পর আর নতুন কোনও কাজের সূচনা করার সুযোগ থাকবে না। সেজন্যই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে অথবা শেষ হওয়ার মুখে রয়েছে এমন ৪০টি প্রকল্পের কাজের সূচনা আমরা এই সময়ের মধ্যেই শুরু করে দিতে চাই। এ জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।” মন্ত্রী নিজেই জানাচ্ছেন, একবার লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে অন্তত চারমাস এই কাজগুলি ঝুলে থাকবে। তারপর আবার বর্ষার জন্য কাজ আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। তাই এই তাড়াহুড়ো।
দফতর সূত্রের খবর, আট জেলায় এখনও একশোটি প্রকল্পের কাজের শিলান্যাস হয়েছে গত এক মাসে। শনিবারও আলিপুরদুয়ার জেলায় দু’টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। প্রথমে জয়গাঁ কলেজে তিনতলা নতুন ভবনের শিলান্যাস করেন তিনি। যে ভবনটি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি এগারো লক্ষ টাকা। এরপর কুমারগ্রাম ব্লকে উল্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে জোরাই নদীর উপর একটি সেতুর শিলান্যাস করেন তিনি। ওই সেতুটি করতে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ন’কোটি টাকা৷
যদিও লোকসভা ভোটেরর আগে একের পর এক প্রকল্পের কাজের সূচনাকে নির্বাচনী চমক বলছেন বিরোধীরা। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়ের অভিযোগ, ‘‘রাজ্যের মন্ত্রীরা শুধু শিলান্যাসই করছেন। কোনও প্রকল্পের কাজ হচ্ছে না। মানুষও তা বুঝে গিয়েছেন। ফলে লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে ৪০টি কেন, চার হাজার প্রকল্পের শিলান্যাস হলেও, মানুষ তৃণমূলের পক্ষে থাকবে না।’’