নির্বাচনী জনসভায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় বিজেপি হিন্দুস্থান জুড়েই হারবে। এখন বলছে আমার বাংলা চাই। তা পাওয়া যাবে না। আমরা ৪২-এ ৪২-ই পাব।’’
এ দিন পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা করা হয়নি বলে আবারও তিনি তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। মমতা বলেন, ‘‘তোমরা বাংলাকে পছন্দই কর না। নামটা শুনলেই আঁতকে ওঠো। হিংসে করো।’’
বৃষ্টির মধ্যেই এ দিন তাঁর দু’টি জনসভাতেই ভিড় দেখে খুশি তৃণমূল। রায়গঞ্জে স্টেডিয়ামের দর্শকাসনে কাউকে উঠতে দেওয়া হয়নি। ইসলামপুরে মাঠটি ছোট ছিল। তার মধ্যে বৃষ্টিতে রাস্তায় দল দাঁড়িয়ে যায়। এর ভিতরেই মানুষ এসেছেন। মমতাও সেখানে দাপটের সঙ্গে লড়াই করেছেন বিজেপির প্রচারের।
ইসলামপুরে মমতা বলেন, ‘‘মোদীবাবুরা বলেন এখানে নাকি পুজো করতে দেওয়া হয় না, সরস্বতী পূজা নাকি করতে দেওয়া হয় না। এখানে নাকি দুর্গা পূজা হয় না। মোদী কি দুর্গা পূজার মন্ত্র জানেন? ’’
তারপরে মমতা নিজেই নানা পুজোর মন্ত্র জনসভায় বলেন। অন্য ধর্মের মন্ত্রও বলেন। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘আমরা সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করি।’’ প্রসঙ্গত, এই এলাকাতেই সরস্বতী পুজো করা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল।
রায়গঞ্জে তাঁর দলের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে ধর্মনিরপেক্ষ বলেও দাবি করেন মমতা। কানাইয়ালালকে ভূমিপূত্র বলেও আলাদা করে দাবি করলেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রায়গঞ্জ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি, সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম ও বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরীর নাম না করে তাঁদের দিল্লি ও কলকাতাবাসী বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
তবে জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের দাবি, ‘‘ভূমিপূত্র তথা রায়গঞ্জের প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি। তাঁরা জেলায় কী উন্নয়ন করেছেন, তা সকলেই জানেন। তাই দীপাই জিতবেন।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পালের বক্তব্য, ‘‘কানাইয়ালাল জানেন, জিততে পারবেন না।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দাম বলেছেন, ‘‘দেবশ্রী অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বাসিন্দা। এখন রাজনীতির কাজের জন্য কলকাতায় থাকেন।’’ তাঁর দাবি, তৃণমূলই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে।
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
জনসভাতে মুখ্যমন্ত্রী সমর্থকদের বলেন, ‘‘আপনারা কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।’’