Advertisement
E-Paper

এসআইআরের নোটিস পেয়ে বিষপান মালদহের প্রৌঢ়ের! শুধু হরিশ্চন্দ্রপুরেই লক্ষাধিক মানুষকে হাজিরার নির্দেশ, বিতর্ক

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন নিজেও এসআইআরের নোটিস পেয়েছেন। তাঁর বিধানসভা এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি তৃণমূল বিধায়কের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের নোটিস পেয়ে আতঙ্কে বিষপান করলেন এক প্রৌঢ়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় হয়রানির কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ৫৮ বছরের মোমিল আলি। এমনই অভিযোগে উত্তেজনা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। ওই বিধানসভা কেন্দ্রে এক লক্ষের বেশি মানুষ শুনানির নোটিস পেয়েছেন। তাই নিয়ে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিমরাহা এলাকার বাসিন্দা মোমিন। পরিবার সূত্রে খবর, শারীরিক ভাবে তিনি অসুস্থ। পুত্রেরা পেশার কারণে ভিন্‌রাজ্যের বাসিন্দা। এ হেন প্রৌঢ়ের কাছে নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ওই নোটিস পেয়েই আতঙ্কে ভুগছিলেন প্রৌঢ়। তাঁর চিন্তা ছিল, হঠাৎ করে কাজ ফেলে কী ভাবে পুত্রেরা হাজিরা দিতে বাড়ি আসবেন। অভিযোগ, মানসিক দুশ্চিন্তাতেই সোমবার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রৌঢ়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। তার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।

খবর পেয়ে সঙ্কটজনক প্রৌঢ়কে দেখতে হাসপাতালে যান তৃণমূলের মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য বুলবুল খান। তিনি বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন। বুলবুল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হয়রানি করছে ওরা। কত মানুষ আত্মহত্যা করছেন, লাইনে দাঁড়িয়ে মারা যাচ্ছেন। তবু বিজেপি এবং কমিশনের হুঁশ ফিরছে না।’’ উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত রাজ্যে বিএলও-সহ ৮৫ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআরকে দায়ী করা হয়েছে। তবে বুলবুলের দাবির বিরোধিতা করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এসআইআর নিয়ে জনমানসে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য তৃণমূল একাই দায়ী। তারা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক তরজা চলছেই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রৌঢ়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এখনও সঙ্কটমুক্ত নন তিনি।

সোমবারই মালদহের হরিশচন্দ্রপুরে একটি শুনানিকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়েন শবনম খাতনু নামে এক মহিলা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, শুনানি চলাকালীন হয়রানির শিকার হন তিনি। তার জেরে সংজ্ঞা হারান। শবনমকে হাসপাতালে নিয়ে যান রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেন। উল্লেখ্য, শুধু হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভাতেই লক্ষাধিক মানুষ শুনানির নোটিস পেয়েছেন। হাজিরা দিতে হবে খোদ মন্ত্রী তাজমুলকেও।

Malda Harishchanrdapur TMCP BJP SIR West Bengal SIR SIR hearing
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy