প্রথম বার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুললেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সুযোগ পেলে এ বিষয়ে তিনি কথা বলবেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আবেদন জানাবেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজু।
শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠানমঞ্চে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঞ্চে সাংসদ রাজু বিস্তাও। —নিজস্ব চিত্র।
রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফরে আসার কথা ছিল শুক্রবার বিকেলে। কিন্তু অনিবার্য কারণে সেই সফর বাতিল হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন। সেখান থেকে শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুরে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ডে আদিবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই ছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদও। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনেকের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে কলকাতায় ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে রাজু বলেন, ‘‘তৃণমূলকে এবং মমতাজিকে ঠিক করতে হবে, আপনি পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী না রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিদের মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকাকে শুদ্ধ করতে চাইছে। এর বিরোধিতা করার অর্থ দেশের বিরোধিতা করা, বাংলার নাগরিকদের বিরোধিতা করা। আপনার তো পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও চিন্তা নেই। কেবল নিজের কুর্সি নিয়ে চিন্তা আছে।’’ রাজ্যে ‘ঘুষের সংস্কৃতি’ চলছে বলে দাবি করেছেন রাজু। বলেছেন, ‘‘এই পরম্পরা সিপিএম শুরু করেছিল, তৃণমূল তা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কেটে নেওয়া সংক্রান্ত একটি মন্তব্যে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজু সেই প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বরিষ্ঠ সাংসদ ও আইনজীবী যদি প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে রাজ্যের কী পরিস্থিতি, বোঝাই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যেন এটাকে হালকা ভাবে না নেয়।’’ এর পরেই রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাজু। বলেন, ‘‘রাজ্যে নিরপেক্ষ ভাবে ভোট করানোর জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন প্রয়োজন। না হলে আজ আঙুল কাটার কথা বলছে, কাল মানুষের মাথা কেটে নেবে। আমি এ সব নিয়ে কথা বলতেই দিল্লি থেকে চলে এসেছি। রাষ্ট্রপতিকে সুযোগ পেলে এগুলো বলব।’’ রাজুর মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন কল্যাণও। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরব ছিলাম, আছি, থাকব। যা বলেছি বেশ করেছি। ক্ষমতা থাকলে জেলে ভরে দেখাক। রাজু বিস্তা জানে কী? থাকে তো দিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে ও কিচ্ছু জানে না।’’ রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি প্রসঙ্গে কল্যাণের জবাব, ‘‘ক্ষমতা থাকলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করুক, এখানকার মানুষ জবাব দিয়ে দেবে।’’