হড়পা বান থেকে একাধিক প্রাণ বাঁচানোয় পুরস্কৃত হলেন মহম্মদ মানিক। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে মালবাজারে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মানিক-সহ যে যুবকেরা গত ৫ অক্টোবর, দশমীর দিন মাল নদীর ভয়ঙ্কর স্রোত থেকে অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাঁদের চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করলেন মমতা। হাতে তুলে দেন সরকারি শংসাপত্রও।
মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ১ লাখ টাকার চেক পেয়েছেন জলপাইগুড়ির পশ্চিম তেশিমিলার বাসিন্দা মানিক। গ্রুপ-সি অথবা কনস্টেবলের চাকরির প্রস্তাবও তাঁকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোন চাকরি তিনি করবেন বা আদৌ করবেন কি না, তা এখনও ভেবে উঠতে পারেননি মানিক। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়ও চেয়েছেন মমতার কাছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিকদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘সরকারের কাছ থেকে তোমরা কি কিছু আশা করছ?’’ এই প্রস্তাব পেয়ে কেউ কেউ একটা কাজ চান। তাঁদের সবাইকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে মানিক বলেন, ‘‘নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় চিন্তা করিনি যে, আমি মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্তও পৌঁছে যাব। নিজের কাছে থাকা মোবাইলটা বন্ধুকে দিয়ে দিয়েছিলাম। ওই ভয়ঙ্কর জলের স্রোত থেকে ৯ থেকে ১০ জনের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।’’
আরও পড়ুন:
নীল টি-শার্ট পরা হাসিখুশি ওই যুবকের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে, এটা কখনও কল্পনা করিনি। এত কাছ থেকে কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখব, সেটাই তো ভাবিনি।’’ মানিকের সংযোজন,‘‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন। কে নেবেন, কে নেবেন না তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমি ভেবে দেখছি, কোনও চাকরি করব কি না। করলে কোনটা করব!’’