Advertisement
E-Paper

উত্তরের কড়চা

রায়গঞ্জে একশো বছর পর আবার। রায়গঞ্জ ইন্সটিটিউট মঞ্চে দর্শকরা দেখলেন নাটক ‘মেবার পতন’। সৌজন্যে রায়গঞ্জ নাট্যচর্চার শতবর্ষ উদযাপন সমিতি। শতবর্ষ আগে অভিনীত হয়েছিল ‘মেবার পতন’। সৌজন্যে নট যতীন্দ্রমোহন গোস্বামী। যিনি জেলার নাট্যচর্চার পথিকৃৎ। ১৯১৬-র ডিসেম্বর।

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৩৪

একশো বছর পর ফের মেবার পতন

রায়গঞ্জে একশো বছর পর আবার। রায়গঞ্জ ইন্সটিটিউট মঞ্চে দর্শকরা দেখলেন নাটক ‘মেবার পতন’। সৌজন্যে রায়গঞ্জ নাট্যচর্চার শতবর্ষ উদযাপন সমিতি। শতবর্ষ আগে অভিনীত হয়েছিল ‘মেবার পতন’। সৌজন্যে নট যতীন্দ্রমোহন গোস্বামী। যিনি জেলার নাট্যচর্চার পথিকৃৎ। ১৯১৬-র ডিসেম্বর। যতীন্দ্রমোহন গোস্বামীর হাত ধরে তাঁর বাড়ির প্রাঙ্গণে জেলার নাট্যচর্চার সূচনা হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত দেশাত্মবোধক নাটক ‘মেবার পতন’ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে। নাট্যচর্চার শতবর্ষ উদযাপন উৎসবে দু’দিন ধরে মঞ্চস্থ হল নাটকটি। নির্দেশনায় সুধাংশু দে এবং অশোক গঙ্গোপাধ্যায়। সক্রিয় নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত শহরের তেরোটি নাট্য দল সমবেত ভাবে অংশ নিল, পালন করল গৌরবময় নাট্যচর্চার শতবর্ষ। নাটকের পটভূমি রাজপুতানার ক্ষুদ্ররাজ্য মেবার। শত শত বছর বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল তার। সমস্ত আর্যাবর্ত মোগলদের কাছে শির নত করলেও ব্যতিক্রম ছিল মেবার। মহারাণা প্রতাপ সিংহের পুত্র রাণা অমর সিংহের রাজত্বকালে সম্রাট জাহাঙ্গির তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে ছিলেন মেবার ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু রাজপুত জাতি বীরত্ব, শৌর্য, স্বদেশ প্রেম ও তাঁদের স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর ছিল। বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন রায়গঞ্জের নাট্য দলগুলির শিল্পীরা। সত্যবতীর ভমিকায় রাখী দে সরকার এবং মোগল সেনাপতি মহব্বত খাঁ-র ভুমিকায় আদিত্য দাস অনবদ্য। জাহাঙ্গির চরিত্রে হিরন্ময় দত্ত চৌধুরী এবং সাগর সিংহের ভূমিকায় আশিষ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় বহু দিন মনে থাকবে। সৈন্যদের ভূমিকা নাটকের গতি সঞ্চার করেছে। সঙ্গীত পরিচালনা কালিকাপ্রসাদ, মঞ্চ নির্মাণ করেন নীলাভ চট্টোপাধ্যায় ও অরূপ ধর, আলো বরুণ কর, আবহে মুরারি চৌধুরী। সাত দিনের এই উৎসবের সূচনা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে শহর পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে। পা মেলান নাট্য অ্যাকাডেমির সদস্যরা, শহরের নাট্যমোদী মানুষ সংবর্ধনা জানান মেক আপ আর্টিস্ট নিমু ধরকে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ‘সূর্যোদয় হোম’-এর মূক বধির আবাসিক বৃন্দ মঞ্চস্থ করেন নাটক ‘পান্তাবুড়ি’। ছিল সত্যম নাট্যসংস্থার নাটক ‘সৌদামিনী’ (নির্দেশনা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়)। তৃতীয় দিন পরিবেশিত হয় ‘জাগরী’ নাট্য দলের নাটক ‘ঈশ্বর কাহিনি’ (নির্দেশিকা শান্তনু রাহা) এবং রূপরঙ্গ থিয়েটার ইউনিটের ‘পাশ বা ধপাস’। দর্শকরা ‘মেবার পতন’ দেখলেন উৎসবের চতুর্থ ও পঞ্চম দিন। শেষ দু’দিন মঞ্চস্থ হয় ‘সারণী একটি নাটকের দল’ সংস্থার নাটক ‘এবং অরণ্যদেব’ (পরিচালনা শমীক দাস), বিবেকানন্দ নাট্যচক্রের নাটক ‘উদ্বাহ’ (নির্দেশনা ভোলা নন্দী) ও তরুণ নাট্যসমাজের নাটক ‘আদাব’ (নির্দেশক অরূপ মিত্র)। শতবর্ষ আগে যে নাট্য চর্চার শুরু, শতবর্ষ পরে তা এ ভাবেই বহমান এবং নানা শাখাপ্রশাখায় আজ পল্লবিত। লেখা ও ছবি: অনিতা দত্ত।

Advertisement

নায়েব আলি (টেপু)

প্রবাদ প্রতিম ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্পী নায়েব আলি (টেপু)র ১০৬তম জন্মজয়ন্তী পালিত হল বলরামপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণে। আয়োজক নায়েব আলি (টেপু) স্মরণ সমিতি, কোচবিহার। দু’দিনের এই জন্মোৎসবের সূচনা করেন নাটাবাড়ির বিধায়ক, বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয় কবি কমলেশ সরকার, লোকসঙ্গীত বিশেষজ্ঞ শ্রীউপাসু, প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পী অনিতা সাহা, আব্বাসউদ্দিন এবং নায়েব আলির সান্নিধ্য ধন্য সিরাজুল হক এবং গ্রামীণ গিদাল অন্তেশ্বর বর্মণকে। ললিত রায়, হামিদা সরকার, ভূপতিভূষণ বর্মা, সুজিতা রায় এবং মাহবুব আখতারের কণ্ঠে লোকগান শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। নায়েব আলির জীবন ও সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা করেন দেবব্রত সরকার, শর্মানন্দ বর্মন, ভূপতি বর্মা প্রমুখ। তাঁরা জানান, বিস্মৃত প্রায় ওই শিল্পীকে নিয়ে এমন উৎসব, আলোচনা সভা ভাওয়াইয়া সঙ্গীতের পাশাপাশি রাজবংশী সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করবে। ছিল লোকসমাজ জীবনে ব্যবহার্য কৃষি ও বাদ্য যন্ত্রের প্রদর্শনী। ঠাঁই পেয়েছিল দিকপাল ভাওয়াইয়া শিল্পীদের ছবি ও জীবনী। উৎসব কমিটির সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানান, ইতিমধ্যে শিল্পীর কবরস্থান সংরক্ষণ করা হয়েছে। তুফানগঞ্জ শহরের অতিথিশালার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে, উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শিল্পীর গাওয়া ২৭ খানা গানের রেকর্ড সংরক্ষণ করার।

চলে গেলেন চোমং লামা

জীবন-যাপনে ছিলেন সহজ-সরল। সোজাসাপটা কথাবার্তা বলতেন। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত হাসি মুখে সামলে সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের নানা কাহিনি। ভাষার মারপ্যাঁচের ধার ধারেননি কোনওদিন। বাঁকা পথ পছন্দ করতেন না বিমল ঘোষ। যিনি লেখক চোমং লামা হিসেবেই সাহিত্য জগতে বেশি পরিচিত। রবিবার সেই বিমলবাবু প্রয়াত হয়েছেন। কদিন আগে রাজ্যের তরফে তাঁকে বঙ্গরত্ন দেওয়া হয়েছিল। সেই বিমলবাবু শিলিগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে সে ভাবে চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই হয়নি। তাঁকে হাকিমপাড়ার নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে হয়। সেখানেই প্রয়াত হন তিনি। যে ঘটনার পরে বিমলবাবুর অনুগামীরা অনেকেই জানিয়েছেন, ধরাধরির ধার ধারতেন না অশীতিপর লেখক। বলতেন, ‘সোজা পথের মানুষ। কাউকে ধরাধরির মধ্যে নেই। সরলরেখায় যেখানে পৌঁছনোর কথা, সেই গন্তব্যেই যাব।’ বর্তমান বাংলাদেশের যশোহর জেলায় জন্ম। দেশভাগের সময় সেই ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসা। কলকাতায় গিয়েছিলেন। চলে আসেন শিলিগুড়ি। সতীশচন্দ্র টি এস্টেটে বাগানবাবুর চাকরি পান। চা বাগানের সেই জীবন তাঁর লেখায় পরে উঠে এসেছে। পরিবারের লোকেরা তাঁকে লেখালেখির মধ্যেই ডুবে থাকতে দেখতেন। পরে শিলিগুড়ির মহাকালপল্লিতে জমি কেনেন। বিমলবাবুর ছেলে অঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘বাবা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘গুরু’ মানতেন।’’ নকশালবাড়ি আন্দোলনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। দেখেছিলেন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকেই। তাঁর লেখা ছোট গল্পের সংখ্যা চারশো’রও বেশি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বঙ্গরত্ন-ই তাঁর পাওয়া প্রথম কোনও সরকারি স্বীকৃতি। বিমলবাবুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গের লেখক-শিল্পীরা। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা লেখক উমেশ শর্মার কথায়, ‘‘উত্তরবঙ্গের সাহিত্যজগতে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’’ শোকপ্রকাশ করেছেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যও।

আলোচনাচক্র

স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হল দিনহাটা কলেজে। স্বনির্ভর যোজনা এবং স্বরোজগার গোষ্ঠী নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, সেই সব গবেষকরা প্রবন্ধ পাঠ করেন। আলোচনার আসরে মূল নিবন্ধ পেশ করেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক সমীরেন্দ্রনাথ ধর। তাঁর নিবন্ধে উঠে আসে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক উন্নতির কথা। তাঁর মতে, বেশ কিছু দিন চলার পর স্বরোজগার ও স্বনির্ভরগোষ্ঠীগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আন্দোলনও। সভার মুখ্যবক্তা আনন্দগোপাল ঘোষ জানান, এই গোষ্ঠীগুলিতে আদিবাসী মহিলাদের যোগদান বেশ উল্লেখযোগ্য। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বরোজগার যোজনায় গ্রামীণ অর্থনীতি বিশেষত মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের ভূমিকা আছে বলে তিনি মনে করেন। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক প্রদীপ মন্ডল, সূর্যনারায়ণ রায়, অধ্যাপক দেবব্রত চৌধুরী-সহ বিশিষ্টজনরা। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপিকা ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

ডেগর

সাম্প্রতিক সময়ে রাজবংশী ভাষার অন্যতম প্রধান পত্রিকা নিখিলেশ রায় সম্পাদিত ‘ডেগর’ এর নবম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভানু মঞ্চে আয়োজিত রাজবংশী সাহিত্য উৎসবের প্রথম দিনে পত্রিকার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন, কলা, বাণিজ্য ও আইন ফ্যাকাল্টির ডিন পলাশরঞ্জন সেনগুপ্ত-সহ বিশিষ্ট জনেরা। রাজবংশী ভাষার গল্প, প্রবন্ধ, লোককথা, কবিতা পত্রিকাটিতে স্থান পেয়েছে। পত্রিকার প্রচ্ছদ করেছেন দেবব্রত ঘোষ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy