সম্প্রতি বালুরঘাটের মন্মথ নাট্যচর্চা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হল আবৃত্তিসন্ধ্যা। আয়োজক ‘কাব্যায়ন আবৃত্তি শিক্ষা ও চর্চা কেন্দ্র’। সূচনা হয় শিশুশিল্পী প্রত্যাশা ঘোষের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘প্রার্থনা’ দিয়ে। রং বদলের ব্যাপারস্যাপার, জিরাফের বাবা, সহজ উপায়, কর্তাবাবুর হাতি, রবীন্দ্রনাথ, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, ভবানীপ্রসাদ মজুমদার।
রূপক চট্টরাজের কবিতাগুলি আবৃত্তি করে শোনায় আরিষণা, অর্কদীপ, মৃত্যুঞ্জয় ও গরিমা। শিশুশিল্পীদের সমবেত নিবেদনে ছিল কাজী নজরুল ইসলামের ‘নবার নামতা পড়া’ এবং নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘বাঘের থাবা’ কবিতা দুটি। বনলতা সেন, ট্যাঁশ গরু, রুমির ইচ্ছে, নকল ঢাক, ইচ্ছে কবিতাগুলি পরিবেশন করেন হিমাদ্রী ঘোষ, শুভ্রশংকর বিশ্বাস, তৃষিতা সরকার, অয়ন্তিকা দাস, স্নেহা গঙ্গোপাধ্যায়। একক নিবেদনে প্রিয়াংকা, দেবপ্রীতি, সৃজিতা, মণ্ডল, সৌভাগ্যের মতো খুদেরা শোনাল নাড়িটেপা ডাক্তার, হাউমাউখাউ, ঐতিহাসিক জলসা। সম্মেলক কণ্ঠে ওদের পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, কার্তিক ঘোষের কবিতা। অন্নদাশংকর রায়ের খুকু ও খোকা, অপূর্ব দত্তর কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জননী জন্মভূমি, রবীন্দ্রনাথের প্রশ্ন একে একে আবৃত্তি করেন চিরাগ মণ্ডল, অভিরূপ চাকী, ইপসা সাহা এবং সপ্তর্ষি ঘোষ। অঙ্কিতা কুণ্ডু পরিবেশন করেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘দেশলাই কাঠি’ কবিতাটি। সমস্তা, ঋনীলা, অর্ণব, ঋষি তপস্বীর গলায় শোনা গেল হারিয়ে পাওয়া, লিচু চোর, খাপছাড়া, খোকার উক্তি জবর মুক্তি কবিতাগুচ্ছ। সৃজিতা তোকদার এবং ঋষিদীপ্ত বণিকের দ্বৈত কণ্ঠে ছিল ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের ‘হরিনামের পরিণাম’ কবিতাটির আবৃত্তি। কৃত্তিকা ঘোষ, তনুশ্রী পাল, সোমা মুখোপাধ্যায়রা আবৃত্তি করে শোনান শরৎ মুখোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গভূমি’, শঙ্খ ঘোষের ‘যমুনাবতী’, সব্যসাচী দেবের ‘কৃষ্ণা’ কবিতাগুলি। পুতুল ভাঙা, ব্যাঙ ও হাতির লড়াই, সৎপাত্র কবিতাগুলি পরিবেশনায় বিশ্বনাথ, প্রতীম এবং মঞ্জিষ্ঠা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সঞ্জয় কর্মকার।
লেখা ও ছবি : অনিতা দত্ত