প্লাজ়মা থেরাপিতেও শেষ রক্ষা হল না। মৃত্যু হল বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহরের ডাকবাংলো পাড়ার এক বৃদ্ধের। শুক্রবার সকালেই করোনা আক্রান্ত আরও দু’জনের মৃত্যু হয় কোভিড হাসপাতালে। এই নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে করোনা রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ২৯ জন।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তরবঙ্গে প্রথম ওই বৃদ্ধকে বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে প্লাজ়মা থেরাপি দেওয়া হয়। এর পরে তিনি কিছুটা সুস্থও হন বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়। ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা হাসপাতালে তিনি মারা যান। ফলে প্লাজ়মা থেরাপির মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিয়ে আর তেমন উৎসাহ দেখা্চ্ছে না স্বাস্থ্য দফতর। এর আগেও রাজ্যে প্লাজ়মা থেরাপির পরেও রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে সম্প্রতি আইসিএমআরের পক্ষ থেকেও জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের জানানো হয়েছে যে, রোগীর মৃত্যু রুখতে প্লাজ়মা থেরাপি কার্যকরী নয়।
এ দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে তপন ব্লকের বালাপুর এলাকার ৫৮ বছরের এক ব্যক্তি এবং হিলি ব্লকের ত্রিমোহিনী এলাকার ৫০ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। দু’জনেই করোনা পজ়িটিভ হয়ে বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত দু’জনই করোনা পজ়িটিভের পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এ দিন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন, ‘‘শহরের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধ ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। দেহে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে আসছিল। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় তাঁকে প্লাজ়মা থেরাপি দেওয়া হয়েছিল। কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।’’ মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানান, তবে প্লাজ়মা থেরাপিতে খারাপ রোগীর সুস্থতার ক্ষেত্রে কোনও অতিরিক্ত সুবিধা নেই বলে আইসিএমআর থেকে জানানো হয়েছে। ফলে নতুন করে জেলায় প্লাজ়মা দানের কর্মসূচিতেও ভাঁটা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ দিন নতুন করে সব মিলিয়ে জেলায় ৪০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বালুরঘাট শহরে ৭ জন এবং গ্রামীণ এলাকায় ১৩ জন। পাশাপাশি কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, তপন, কুশমণ্ডি ও বংশীহারি এলাকায় একাধিক বাসিন্দা সংক্রমিত হয়েছেন। বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম পুলিশ ফাঁড়ির এক এএসআই সহ মোট ৪ জন পুলিশ ও সিভিক কর্মী করোনায় আক্রান্ত। তাঁদের সেফহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।