পুলিশের প্রশ্ন এড়াতে অনেকেরই পা এখন সাইকেলের প্যাডেলে। পূর্ণ লকডাউনে শহরের রাস্তায় ক্রমশ বাড়ছে সাইকেল। পুলিশ কর্মীর দাবি, “এখন সাইকেল আরোহীকেও জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে, কেন বাইরে বার হয়েছেন। গার্ডরেল টপকে দেদার চলছে সাইকেল। ব্যর্থ হচ্ছে লকডাউনের উদ্দেশ্যও।” এমনই ছবি ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহে।
শনিবারও মালদহের দুই শহরের সমস্ত দোকান-বাজার থেকে বন্ধ রয়েছে আনাজ, মাছ বাজারও। আজ, রবিবার পর্যন্ত শহরের বাজারগুলিতে আনাজ ও মাছ বাজার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ী মহল। বৃহস্পতিবার থেকে দুই শহরে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত দোকান-বাজার বন্ধ রয়েছে। ভ্যান রিকশা, সাইকেল করে শহরের অলি-গলিতে বিক্রি হচ্ছে মাছ ও আনাজ। মার্চেন্ট চেম্বার অফ কর্মাসের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, “প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আমরা দোকান-বাজার বন্ধ রেখেছি। আগামী দিনেও প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে। তবে প্রশাসনের কাছে ব্যবসায়ীদের বিষয়টিও ভেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।”
দুপুরের পর থেকে রাস্তা-ঘাট সুনসান হয়ে গেলেও সকালের দিকে ভিড় এড়ানো যাচ্ছে না। ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় গার্ডরেল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। মোটরবাইক নিয়ে গার্ডরেল টপকাতে হলে পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই তাই গলি পথ ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার পুলিশের প্রশ্ন এড়াতে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়ছেন। ইংরেজবাজার শহরের নেতাজি মোড়ে কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মী বলেন, “এক ঘণ্টায় চোখের সামনে দিয়ে ১০০টা সাইকেল গার্ডরেলের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল। পরে সাইকেল থামিয়েও জিজ্ঞেস করতে হচ্ছে কেন রাস্তায় বেরিয়েছেন।” আর মানুষের অজুহাত যেন মুখেই লেগে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “কেউ বলছেন গ্যাসের ওষুধ আনতে যাচ্ছি, কেউবা আবার বলছেন চিকিৎসক চেম্বারে রয়েছেন কিনা তা দেখতে যাচ্ছি।” শহরের বাসিন্দা এক সাইকেল আরোহী বলেন, “জরুরি কাজে বার হয়েছি। মোটরবাইকে বেরোলে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই মেয়ের সবুজ সাথী সাইকেল নিয়ে জরুরি কাজ সারছি।’’
বাসিন্দাদের সচেতনতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। করোনা মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বার্তা প্রথম থেকেই দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য দফতর। প্রশাসনের তরফেও নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি, মাস্ক পরার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। তবুও মানুষের মধ্যে সচেতনতা এখনও আসছে না। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার তথা সহ অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, “লকডাউন আমাদের ভালর জন্যই করা হয়েছে। তা সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষকেই বুঝতে হবে।” মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, “দুই শহর জুড়ে নিয়মিত টহলদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং করে প্রচারও চলছে।”