Advertisement
E-Paper

অনুন্নয়ন, ক্ষোভ শুনতে গিয়ে ‘বন্দি’ বিডিও

অনুন্নয়নের অভিযোগে ডাকা ভোট বয়কট তুলতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের বিডিও। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিলখানা এলাকায়। অভিযোগ, এ দিন বিডিও গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের ভিতরে থাকাকালীনই বাইরে থেকে অফিসের ফটকে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য ওই তালা নিজেরাই খুলে নেন বাসিন্দাদের একাংশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৬ ০২:৪২
তালাবন্ধ পঞ্চায়েত দফতর। নিজস্ব চিত্র।

তালাবন্ধ পঞ্চায়েত দফতর। নিজস্ব চিত্র।

অনুন্নয়নের অভিযোগে ডাকা ভোট বয়কট তুলতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের বিডিও।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিলখানা এলাকায়। অভিযোগ, এ দিন বিডিও গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসের ভিতরে থাকাকালীনই বাইরে থেকে অফিসের ফটকে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য ওই তালা নিজেরাই খুলে নেন বাসিন্দাদের একাংশ।

কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের বিডিও স্বপন মাইতি অবশ্য তালা দেওয়ার বিষয়টি মানতে চাননি। তিনি বলেন, “অফিসের ভিতরে যাতে বেশি লোক ঢুকতে না পারেন সে জন্য বাইরে তালা দেওয়া হয়। বিক্ষোভের জন্য নয়। বাসিন্দারা রাস্তা ও নিকাশি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। ভোটের পরে ওই কাজ করা হবে।” আপাতত ভোটের সময় যাতায়াতের সুবিধের জন্য সামান্য কিছু কাজের আশ্বাস দেন।

Advertisement

নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ওই বিধানসভা এলাকার বিধায়ক জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে রয়েছে। এর পরেও ওই এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। বার বার বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, বিধায়ক সবার কাছেই আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁরা। কাজের কাজ কিছু হয়নি। নিকাশি বেহাল হয়ে পড়ায় বর্ষার সময় নিকাশি উপচে জল রাস্তায় চলে আসে। তখন চলাচল করা যায় না। ওই অবস্থার মধ্যে দিন কয়েক আগে বিধানসভ ভোট বয়কটের ডাক দেন বাসিন্দাদের একাংশ। তা নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ দিন বিডিও ওই এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের ভোট বয়কট কর্মসূচি তুলে নেওয়ার আবেদন করেন। সেই সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। কেন এতদিনেও রাস্তা তৈরি হয়নি সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। সেই সময় বিডিও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের ভিতরে গিয়ে তাঁদের আলোচনায় বসেন। অভিযোগ, সেই সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের কয়েকজন বাইরে থেকে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য মহম্মদ নুর আলম জানান, তিনি ওই রাস্তা এবং নিকাশির জন্য অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বরাদ্দ এখনও হয়নি।

এলাকার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ওই ঘটনায় সিপিএমের ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “চারদিকে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বাম আমলে কোনও কাজ হয়নি। ফলে সবকিছুই আমাদের নতুন করে করতে হচ্ছে। গোটা জেলায় বহু রাস্তা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের উসকানিতে ওই এলাকার কয়েকজন এমন অভিযোগ তুলেছেন।”

সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা বলেন, “সারা বছর কোনও কাজ হয়নি। রাস্তা থেকে নিকাশি কোনও কাজ হয়নি। বাম আমলে তৈরি রাস্তা বেহাল হয়ে পড়লেও তা সংস্কার করা হয় না। মানুষের ক্ষোভ স্বাভাবিক।” কংগ্রেসের তরফেও রবীন্দ্রনাথবাবুর অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, উন্নয়ন না হওয়াতেই নানা জায়গায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy