তিন শিশু কন্যা নিয়ে আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া অসহায় রীতার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দারা। এমন কী ডুয়ার্স উৎসবে যোগ দিতে এই শহরে আসা অতিথিরাও সামিল হলেন তাতে।
আনন্দবাজার পত্রিকায় রীতার খবর প্রকাশের পর বুধবার ডুয়ার্স উৎসবের অনুষ্ঠান মঞ্চেই তাঁকে সাহায্যের জন্য দু’হাজার টাকা উৎসব কমিটির হাতে তুলে দেন শিল্পী কার্তিক দাস বাউল। কার্তিকবাবু বলেন, “বিষয়টি খবরের কাগজে পড়েছি। খুবই বেদনার। সাধ্য মতো সাহায্যের চেষ্টা করেছি। সকলে এগিয়ে এলে পরিবারটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।”
বৃ্হস্পতিবার দুর্গাবাড়ি হাটখোলায় যান বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। কথা বলেন রীতার সঙ্গে। কার্তিক দাস বাউলের দেওয়া টাকা সহ মোট ছয় হাজার টাকা রীতার হাতে তুলে দেন। সৌরভবাবু বলেন, “নিজ ভূমি নিজ গৃহ প্রকল্পে মা ও মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।” রীতা জানায়, বছর ছয়েক আগে বাড়ির অমতে বিয়ে করায় তার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখেনি পরিবারের লোকজন। রীতার বাবা রেলে কাজ করতেন। স্বামী মনতোষ বিশ্বাস জানিয়েছিল তাঁর বাড়ি ফালাকাটায়। তবে সেখানে কোনওদিন রীতাকে নিয়ে যাননি। ফলে শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা জানা নেই। পর পর তিন মেয়ে হওয়ায় মনতোষ তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয় তাকে। তার পর তিন শিশুকে নিয়ে আলিপুরদুয়ার ষ্টেশনে কাটান কয়েকটা দিন। এখন আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গাবাড়ির হাটখোলায়।
রীতার বড় মেয়ের বয়স সাড়ে চার বছর। তারপরের দু’টি শিশুর একটির বয়স দুই। অন্যটি সাত মাসের। এলাকার একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে কোনও মতে নিজের ও মেয়েদের পেট চালাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের জন্য কম্বল ও মশারির ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু চারিদিক থেকে আসা খোলা হাওয়ায় প্রতিটা রাতই যেন অভিশাপ বয়ে আনে।
এ দিন জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সমর ভট্টাচার্য জানান, আপাতত হাটখোলার টিনের শেডের নীচে ছোট জায়গা প্লাস্টিক দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে যাতে হাওয়া না ঢোকে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ১১ নম্বর ওয়ার্ডে রীতার জন্য ঘর খুঁজছি। যেখানে তিন মেয়েকে নিয়ে তাকতে পারবেন তিনি। বাচ্চাগুলি বড় হলে তাদের স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।’’