Advertisement
E-Paper

ঠিক কী হয়েছিল বলুন তো, প্রশ্নে জেরবার সরজেরাও

ছোট্ট মোবাইলটা নাগাড়ে বেজে ব্যাটারি ফুরিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সকালে সবে দোকান খুলেছেন, হামলে পড়লেন অত্যুৎসাহীরা। দাদা, ঠিক কী হয়েছিল বলুন তো?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০৯
সরজেরাও রাজারাম যাদব। — নিজস্ব চিত্র

সরজেরাও রাজারাম যাদব। — নিজস্ব চিত্র

ছোট্ট মোবাইলটা নাগাড়ে বেজে ব্যাটারি ফুরিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সকালে সবে দোকান খুলেছেন, হামলে পড়লেন অত্যুৎসাহীরা। দাদা, ঠিক কী হয়েছিল বলুন তো?

ইনকাম ট্যাক্স ডাকাডাকি করছে নাকি? পাসবইটা দেখাবেন একবার? রাস্তায়, দোকানে, বাজারে এমন হাজারো ‘জেরা’ সামলে চলেছেন সরজেরাও রাজারাম যাদব। তাঁর স্ত্রী মনীষাদেবীও দিনভর হাকিমপাড়ার ফ্ল্যাটের ঘরে পড়শিদের প্রশ্নের মুখোমুখি। রবিবার দুপুর দেড়টাও হাড়ি চড়েনি তাঁর হেঁসেলে। কী ভাবে অ্যাকাউন্টে হাজার কোটি টাকা ঢুকল তার গল্প শুনিয়ে ক্লান্ত মরাঠি দম্পতির একমাত্র চিন্তা, তাঁদের জমা আড়াই লক্ষ টাকা সুরক্ষিত রয়েছে তো! গত শুক্রবার রাত থেকে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ হয়ে রয়েছে।

সরজেরাও-এর অ্যাকাউন্টে ৯৯৯ কোটি টাকা জমা থাকার খবর রটে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের হাতমোলি গ্রামেও। বছর তিনেক আগে গ্রামেই আখ-গম চাষ করতেন সরজেরাও। সোনা-রূপো গলানোর কাজে স্ত্রী দুই ছেলেকে নিয়ে শিলিগুড়ি চলে এসেছেন। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সরজেরাওয়ের ছবি দেখিয়েছে গত শনিবার। তারপর থেকেই গ্রাম থেকে বারবার ফোন আসছে। দুর সম্পর্কের কাকা থেকে ছোটবেলার বন্ধু সকলেই জানতে চাইছেন ‘কেয়া ঝালে?’ শিলিগুড়ির খুদিরামপল্লি-বিধান মার্কেটে বাংলাতে আসছে একই প্রশ্ন, ‘কী হয়েছে।’

গত শুক্রবার বাড়ি ফেরার পথে এটিএম কিয়স্কে ব্যালেন্স চেক করতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে বসেছে ৯৯৯ কোটি টাকারও বেশি। আশঙ্কায় সারা রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি যাদব দম্পতি। শনিবার খুদিরামপল্লিতে দোকানে গিয়ে আশেপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জানান। তারপরেই আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর-বিকেল যেখানেই গিয়েছে সঙ্গে অত্যুৎসাহীদের জটলা। সঙ্গে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন। সরজেরাও বললেন, ‘‘শনিবার থেকে দোকানে ধূপ পর্যন্ত জ্বালাতেও পারিনি। অচেনা লোকও আমাকে দেখে জানতে চাইছে, টাকা কোথা থেকে এল।’’

প্রশ্নের ঠেলায় এ দিন দুপুরে ঘরে ফিরে এসেছেন তিনি। ঘরে থেকেও জেরবার তাঁর স্ত্রী। অন্যদিন ভোরে উঠে স্নান-পুজো সেরে রান্না সেরে ফেলেন তিনি। এ দিন দুপুরে তিনি বললেন, ‘‘সকাল থেকে ঘরে লোক ভর্তি। ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়েছি শুধু। রান্নাবান্না হবে কি না জানি না।’’ খাতায়কলমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হয়েছেন সরজেরাও এবং তাঁর স্ত্রী। রবিবার সকালে ফোন চার্জ করে নিয়ে দোকানে গিয়েছিলেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়েছে। স্ত্রী ফোন করে মোবাইল বন্ধ দেখে আতঙ্কে ঘরবার করেছেন।

আজ সোমবার ব্যাঙ্কে যাবেন সরজেরাও। তখনই জানতে পারবেন ঠিক কী কারণে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার ব্যালেন্স দেখাচ্ছে। আর্জি জানাবেন নিজের টাকাটুকু যাতে দ্রুত তুলতে পারেন সে ব্যবস্থা করার। হাজার কোটির গুঁতোয় নিজের জমানো এক টাকাও তুলতে পারছেন না তিনি।

999 crore Rajaram Yadav
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy