ঘুঘুডাঙার সরলা বর্মণ ছ'কেজি সর্ষে পাইকারের কাছে সত্তর টাকা কেজি দরে বেচে হাতে পেলেন ৪২০ টাকা। তা দিয়ে ওষুধ কিনবেন, নাকি সংসারের সামগ্রী— কপালে ভাঁজ পড়ে তাঁর। প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ভাটপাড়া পঞ্চায়েতের নকসা গ্রাম থেকে হাটে এসে সরকারি সহায়ক দামের চেয়ে প্রায় চার হাজার টাকা কমে ৮ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে হল বিশ্বজিৎ বর্মণকে। রবিবার বালুরঘাটের কামারপাড়া ও পতিরামের দুটি বড় হাটে এই ছবি সামনে আসে।
ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতেই সহায়ক দামে ধান বিক্রির সরকারি মান্ডি বন্ধ। জেলায় ধান, পাট, সর্ষে বেচাকেনা হয় হাটের উপরে নির্ভর করেই। সরলা, পুতুল, বিশ্বজিতের মতো প্রান্তিক চাষিদের রোজগারে বঞ্চনা ও আক্ষেপ ভোটের মুখে আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ। কৃষকেরা জানান, প্রতি কুইন্টাল ধানের সহায়ক দাম প্রায় ২৩০০ টাকা। কিন্তু তাঁদের বেচতে হচ্ছে ১৮৩০ টাকায়। হাটে সর্ষে কুইন্টাল প্রতি সাত হাজার টাকা। পাইকারি ব্যবসায়ী দীনেশ মণ্ডলের দাবি, সাত হাজার টাকা কুইন্টাল কিনে গাড়িভাড়া সমেত তেলকলের কাছে সাত হাজার তিনশো টাকায় বেচতে হয়। লাভের মুখ কেউই তেমন দেখেন না বলে তাঁর দাবি।
বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অমৃতখন্ড পঞ্চায়েতের কামারপাড়া জেলার অন্যতম বিরাট হাট। বসে প্রতি বৃহস্পতি ও রবিবার। হাট চত্বরে গাছে রাজনৈতিক দলের পতাকা ঝুলছে। তবে এখনও হাটে মিছিল বা কোনও দলের তরফে ভোটের প্রচার শুরু হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এ দিন আলুর দাম পড়ে যাওয়া থেকে আবাসের ঘর না পাওয়া, বয়স্ক ভাতা, একশো দিনের কাজ বন্ধ নিয়ে হাট জুড়েই অভিযোগ তোলেন কৃষক ও মজুরেরা। ধান ব্যবসায়ী বীরেন সরকার বলেন, ‘‘হাটের দিন কয়েকশো টন ধান ও সর্ষে বেচাকেনা হয়।’’ মজুরেরা ওই ধান বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলে। এর পরে তা চালকলে চলে যায়। বালুরঘাট কেন্দ্রের পাশাপাশি এ দিন তপন বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন পতিরাম হাটের ছবিও একই রকম। ঝাঁপুরসী গ্রামের এক আলু চাষি বলেন, ‘‘ছ'টাকা কেজি আলু বেচে চাষের খরচ ওঠেনি।’’
বাজার নিয়ন্ত্রণ, সারা বছর ফসলের লাভজনক দাম ও ন্যায্য মূল্যে সার পেতে কৃষকেরা গ্যারান্টি পাবেন? আবাসের ঘর ও একশো দিনের কাজ কবে মিলবে— প্রার্থীর হয়ে ভোট চাইতে হাটে প্রচারে গেলে নানা দলের নেতারা ওই সব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)