সোমবার পুরভোট ঘোষণার পর থেকে দিনভর শাসক দলের নেতানেত্রীদের মধ্যে কে কোন আসন পেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা চলেছে। দলীয় সূত্রের খবর, পুরনো নেতানেত্রীদের সঙ্গে প্রথমবার একাধিক নেতাকে ভোটে দাঁড়াতে হতে পারে। আবার পুরনো কয়েকজন বাদও পড়ছেন বলে খবর। এ বার জেলা স্তরের তালিকায় সিলমোহরের বদলে রাজ্যস্তর থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে।
এ দিন রাত অবধি দফায় দফায় কলকাতায় আলোচনায় অন্তত ৮-১০টি ওয়ার্ডের জটিলতা কাটানোর চেষ্টা চলছে। তা কেটে গেলে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়া হবে। নইলে আরও একদিন সময় লাগতে পারে। কারণ, জেলার স্তরের কয়েকজন নেতা প্রথমে ভোটে দাঁড়াবেন বললেও সম্ভাব্য ওয়ার্ড শুনে পিছিয়ে আসতে চাইছেন। দলের নানা মহলে যোগাযোগ করে তাঁরা পিছিয়ে আসতে চেয়েছেন। সেখানে দল কী সিদ্ধান্ত নেয় তা প্রার্থী ঘোষণাতেই স্পষ্ট হবে। তবে মহিলাদের অগ্রাধিকার দিয়েই প্রার্থী করা হচ্ছে বলে খবর।
এ দিন শিলিগুড়ি-সহ চার পুরসভায় ভোট ঘোষণার পরই আজ, মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের একাংশে গুঞ্জন ওঠে। যদিও এ ব্যাপারে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। বরং সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবারের আগে শিলিগুড়ি পুরভোটের প্রার্থী ঘোষণার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হিসেবে ওই সূত্র থেকেই জানা গিয়েছে, আজ থেকে দু’দিনের জন্য গঙ্গাসাগর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের সাংগঠনিক কাজে কলকাতার বাইরে থাকবেন। এই অবস্থায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে শিলিগুড়ির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে দলের ওয়াকিবহাল মহলের ইঙ্গিত। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, প্রার্থী তালিকা স্থির করার জন্য দলে মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি নির্দিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। তাঁর কথায়, সেই কমিটির বৈঠকেই পুরো বিষয়টি স্থির হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতির ভিত্তিতেই সেই কমিটিই তালিকা ঘোষণার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। দলের জেলার এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘নেত্রীর নির্দেশেই সব হবে। শিলিগুড়িতে আমাদের এ বার জিততে হবে, সেই বার্তা কলকাতা থেকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’
এর মধ্যে দু’দিন আগে শাসক দলে একযোগে প্রথমে শিলিগুড়ির ৩৯ জন নেতানেত্রীকে নিয়ে দলের নির্বাচন মনিটরিং কমিটি গড়া হয়। রাতারাতি তাতে আরও দু’জনকে ঢোকানো হয়। ওই ৩৯ জনের কমিটির নির্দিষ্ট কোনও চেয়ারম্যান বা পদাধিকারী নেই। দীর্ঘ পাঁচমাস দলের জেলা কমিটি না থাকায় অসন্তোষ সামাল দিতে এই কমিটি গড়া হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
নেতাদের একাংশ মনে করছেন, জেলা কমিটি না থাকায় বহু নেতানেত্রীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছিল। তাঁরা ভোটে ঠিকঠাক কাজ করবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিচ্ছিল। এটা প্রশমিত করতেই এই মনিটরিং কমিটি। কিন্তু নির্বাচনী কমিটির মাথায় সরকারি ভাবে কেউ নেই। চেয়ারম্যানহীন বা আহ্বায়কহীন এমন নির্বাচনী মনিটরিং কমিটিকে জেলার সভানেত্রী বা চেয়ারম্যানকেই চালাতে হবে। দলের সমতলের চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমি আর সভানেত্রী আছি। মনিটরিং কমিটি নিয়ে সমস্যা হবে না।’’
দলের কয়েকজন নেতা জানাচ্ছেন, টানা শিলিগুড়ি হারের বদনাম ঘোচাতে হবে দলের পদাধিকারী এবং প্রার্থীদের। নইলে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াবে! শাসক দলের সঙ্গে আজ, বামফ্রন্ট, কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকারও ঘোষণা হতে পারে।