লোকসভার পর বিধানসভা ভোটেও প্রার্থী। কিন্তু দু’টি আসনে হেরে ক্রমে পরাজয়ের গ্লানি ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে হরিরামপুর কেন্দ্রের সদ্য বিজিত বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের। মুখে প্রকাশ না করে সম্প্রতি দলের নানা কর্মসূচি বয়কট করে জেলা নেতৃত্বকে ক্ষোভের বার্তা দিচ্ছেন তিনি।
বুধবার বালুরঘাটে উপস্থিত থেকেও যাননি রাজ্যের সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা কার্যকারিনী বৈঠকে। বৃহস্পতিবার টিকা নিয়ে বালুরঘাটে অবস্থান আন্দোলনেও যোগ দেননি। নীলাঞ্জনকে ক্রমশ বেসুরো হতে দেখে দলে ভাঙনের আঁচ করছেন গেরুয়া শিবিরের অনেকে। রাজ্য কমিটির কাছেও নীলাঞ্জন ইস্যুতে নালিশ গিয়েছে।
শুক্রবার নীলাঞ্জন অনুগামীরা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপির ক্ষমতাসীন একাংশ নেতা তাঁকে পছন্দের বালুরঘাট আসনে প্রার্থী হতে দেননি। জেলা কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে ৩৬ জন পদাধিকারীদের নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। অনুগামীদের মধ্যে সিপিএমের তপন জোনাল সম্পাদক নীরোদ দাস এবং তৃণমূলের আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি বিপ্লব মণ্ডলও ছিলেন।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বালুরঘাট কেন্দ্রে প্রার্থী অথবা বিজেপির জেলা নেতৃত্বের শীর্ষ পদে দায়িত্বের শর্তে নীলাঞ্জন বিজেপিতে যোগ দেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু লোকসভা ভোটে বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদার টিকিট পান। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে ডায়মন্ডহারবারের মতো কঠিন আসনে তাঁকে দাঁড় করানো হয়। পরে তাঁকে বিধানসভা ভোটে বালুরঘাটের নিশ্চিত আসনে প্রার্থী করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
২০১৮ সালের ২১ জুলাই বালুরঘাটে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন নীলাঞ্জন। সামনেই ২০২১ সালের ২১ জুলাই। তৃণমূল ফেরত মুকুল রায়ের হাত ধরেই কি ফের নীলাঞ্জন দল বদলের পথে? প্রশ্ন ঘুরছে গেরুয়া শিবিরেও। বিজেপি জেলা সভাপতি বিনয় বর্মণ বলেন, ‘‘নীলাঞ্জনের বিষয়ে যা বলার রাজ্য নেতৃত্বকে সব জানিয়েছি।’’