দলত্যাগ করে তৃণমূলে আসা বিধায়ক টিকিট পেলেন। তাতেই গোঁসা হয়েছে বন্ধু সংগঠনের।
মালবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক বুলু চিক বরাইককে প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস। গত বছর বুলু যোগ দেন তৃণমূলে। কিন্তু তপশীলি উপজাতি সংরক্ষিত মালবাজার বিধানসভা আসনে দলত্যাগী বুলু চিক বরাইক তৃণমূলের টিকিট পাওয়ায় ক্ষোভ লুকোতে পারছেন না তৃণমূলের বন্ধু সংগঠন হিসাবে পরিচিত আদিবাসী বিকাশ পরিষদ। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পেতেই ক্ষোভ ছড়ায় ডুয়ার্সে।
ডুয়ার্স এলাকা জুড়ে গত পাঁচ বছর আদিবাসী বিকাশ পরিষদ তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থেকেছে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে ‘সখ্যতা’ থাকলেও এবারে যে তাদের কোনও নেতাই তৃণমূলের প্রতীকে দাঁড়াবার সুযোগ পাবেন না তা ভাবতেই পারছেন না আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতারা। উল্লেখ্য গত ২০১১-র বিধানসভায় ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার প্রতীকে লড়েছিলেন আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতারা। এরপর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ। ২০১৩তে মুখ্যমন্ত্রীকে মালবাজারে সভা থেকে আদিবাসী সমাজের সর্বোচ্চ সিনগি দাই সম্মানে ভূষিত করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বঙ্গরত্ন পান আদিবাসী বিকাশ পরিষদের রাজ্য সভাপতি বিরসা তিরকে। বিরসা ৃবাবুকে চেয়ারম্যান করে তরাই ডুয়ার্সে আদিবাসী উন্নয়নের জন্যে তৈরি হয় ট্রাইবাল মনিটরিং কমিটি। এত সবের পরেও যে টিকিট মিলবে না তা ভাবতেই অবাক হচ্ছেন আদিবাসী নেতারা। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার সময়ই জানিয়ে দেন বিভিন্ন দল ছেড়ে যেসব বিধায়কেরা তৃণমূলে এসেছেন তাঁদের ফের প্রার্থী করা হচ্ছে। আর এতেই তেজকুমারের যাবতীয় আশায় জল ঢেলে যায়। বুলু অবশ্য বলছেন, ‘‘কে ক্ষুদ্ধ বা হতাশ হয়েছেন তা বলতে পারব না তবে আমাকে দল বিশ্বাস করায় খুশি।’’
আদিবাসী বিকাশ পরিষদের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা ডুয়ার্সের নেতা পরিমল লগুন বলেন, ‘‘সত্যিকারের আদিবাসী মানুষের প্রতিনিধি তৃণমূলের টিকিট লড়লে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকতো। তাই আমরা তেজকুমার টোপ্পোর নামই ভেবে রেখেছিলাম। তৃণমূল হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত শুনে তাই আমরা খুব হতাশ হয়েছি।’’ মর্মাহত স্বয়ং তেজকুমার টোপ্পোও। তিনি বলছেন, ‘‘আদিবাসী সমাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন প্রার্থী তো আমরা পেলাম না। দলীয় স্তরে আলোচনা হোক তারপরই যা বলার বলব। এ দিকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত বৈঠকও ডেকে ফেলেছে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ। আগামী রবিবার মালবাজারে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ তরাই, ডুয়ার্সের প্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মিসভার ডাক দেওয়া হয়েছে।’’ দলের রাজ্য সভাপতি বিরসা তিরকে সেই সভায় যোগ দেবেন। বিরসাবাবু এ দিন বলেন, ‘‘কর্মীদের মনোভাব না শুনে আমি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে কিছু বলব না।’’
এ দিকে আদিবাসী অধ্যুষিত মালবাজার বিধানসভায় বন্ধু সংগঠন আদিবাসী বিকাশ পরিষদই ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ায় চিন্তিত তৃণমূলও। মালবাজারের ব্লক সভাপতি তমাল ঘোষ বলেন, ‘‘আমি নিজে তেজকুমারবাবুদের সঙ্গে কথা বলব। আমাদের বিশ্বাস ওঁদের সমর্থন আমাদের সঙ্গেই থাকবে।’’