Advertisement
E-Paper

সহবাসে অন্তঃসত্ত্বা যুবতী, সালিশি ডেকে টাকা দিয়ে মেটানোর চেষ্টা তৃণমূল বিধায়কের!

সালিশি সভা ডেকে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার নামে বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার তাঁকে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৭
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। গ্রাফিক: সনৎ সিংহ।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সহবাস করেছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করে তিনি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন মালদহের এক যুবতী। তাঁর অভিযোগ, সহবাসের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। ওই যুবতীর আরও অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁর উপর। সালিশি সভা ডেকে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার নামে বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার তাঁকে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী। যুবতীর এই দাবি মেনে নিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতেই যা হওয়ার হয়েছে। ওই যুবতীকে মীমাংসা করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শাসকদলের যে নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠেছে, বীরনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সেই পল্টু মণ্ডলের সঙ্গে বেশ কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় আনন্দবাজার অনলাইনের তরফে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলকে বিঁধতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

মালদহের কালিয়াচক থানায় পল্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবতী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, ‘‘নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৭ এবং ৩৭৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’’

‘নির্যাতিতা’ পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ভিন্রাজ্যে কাজ করেন। স্বামী বাইরে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে পল্টুর ‘ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর সঙ্গে দিনের পর দিন সহবাস করে গিয়েছেন। প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করায় অভিযোগপত্রে ‘ধর্ষণ’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি, চন্দনারও দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই যুবতী। কিন্তু বিধায়ক সালিশি সভা ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পল্টুর কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে মীমাংসারও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

যদিও সালিশি সভা ডেকে মিটমাট করে নেওয়ার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না চন্দনা। ওই বিধায়কের কথায়, ‘‘উভয় পক্ষই আমার কাছে এসেছিল। গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে সব মিটিয়ে নিতে পঞ্চায়েত প্রধানকে দেড় লক্ষ টাকা দিতে বলেছি। গ্রামে তো এই ধরনের বিচার হয়েই থাকে।’’

তবে, এই ঘটনায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘মামলা এক বার নথিভুক্ত হলে, তা এই ভাবে তুলে নেওয়া যায় না! বিধায়ক এই ধরনের কাজ করতে পারেন না। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সরকারই ব্যবস্থা নেবে।’’

এই ঘটনা নিয়ে শাসকদলকে বিঁধে দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘‘বাংলায় নারীদের মর্যাদা নিয়ে বড় বড় কথা বলেন তৃণমূল নেতারা। এ দিকে, ওই দলেরই এক বিধায়ক দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে সালিশি সভা করে সমস্যা মেটাচ্ছেন! এর থেকে লজ্জার কিছু আর হতে পারে না। তৃণমূল তো ঘোষণা করে দিলেই পারে যে, আইন-আদালত বলে আর কিছু থাকবে না। এখানে শুধুই তৃণমূলের শাসন চলবে।’’

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy