Advertisement
E-Paper

নির্দেশে সত্ত্বেও তালিকায় নাম অনেকের

দলীয় সূত্রে খবর, কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ফলিমারি পঞ্চায়েতের শাসক দলের ১৭ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে আবাস তালিকায় ১১ জনের নাম রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:১৪

নিজস্ব চিত্র।

দল নির্দেশ দিয়েছিল আবাস যোজনা থেকে নাম কেটে নিতে হবে দলের পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, নেতাদের। সমীক্ষার পরে, শেষ হয়েছে সুপার চেকিংয়ের কাজ। কিন্তু অভিযোগ, একাধিক নেতা-পঞ্চায়েত সদস্যের নাম আবাস তালিকায় রয়েই গিয়েছে।

দলীয় সূত্রে খবর, কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ফলিমারি পঞ্চায়েতের শাসক দলের ১৭ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে আবাস তালিকায় ১১ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ন’জনের দাবি, তাঁরা আবাস তালিকা থেকে নাম কাটিয়েছেন। বাকি দু’জন ঘর নেবেন, কারণ তাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল। ওই দু’জনের এক জন দেওয়ানবসের চম্পা মল্লিক। তাঁর স্বামী রাজু মল্লিক বলেন, ‘‘আমরা গরিব। সামান্য জমি থেকে রোজগার। কাঁচা বাড়িতে থাকি। আমার অবস্থা খারাপ বলেই নাম কাটিনি।’’’

এ দিকে, বিরোধীদের দাবি, তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের ধলপল ১ পঞ্চায়েতের ৯/৫ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি ফজিয়র রহমান ও তাঁর বাবা, ভাইয়ের নাম রয়েছে আবাস তালিকায়। অভিযোগ, ফজিয়র-সহ তালিকায় নাম থাকা আর এক জনের পাকা ঘর রয়েছে। ফজিয়র বলেন, ‘‘আমার পাকা ঘর নেই। শুধু ভাইয়ের ভিটে পাকা। পাকা ঘর কারও থাকলে স্বেচ্ছায় নাম কাটাতাম।’’

বিরোধীদের অবশ্য দাবি, প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামে তৃণমূলের একাধিক নেতা -পঞ্চাযেত সদস্যের নাম তালিকায় রয়েছে। তাঁদের অধিকাংশ আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক লিখিত ভাবে পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতাদের নাম প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রত্যেকে নাম বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। সময়ের জন্য যাঁরা পারেননি, তাঁরা ঘর নেবেন না। কেউ ঘর নিলে, বিষয়টি দেখা হবে।’’ বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য নিত্যানন্দ মুন্সী বলেন, ‘‘শাসক দলের পঞ্চায়েত সদস্য ও অনেক নেতার নাম তালিকায় রয়েছে। আমরা ঠিক সময়ে সব তুলে ধরব।’’

এ দিকে, শুক্রবার আবাস যোজনায় তালিকা থেকে নাম কাটাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সিতাইয়ের তৃণমূলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য এবং একজন বুথ সভাপতি। প্রকৃত প্রাপকদের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান তাঁরা। সূত্রের খবর, ওই তিন জন সিতাই ব্লকের ভোলাচাত্রা পশ্চিম পাঠের পঞ্চায়েত প্রতিনিধি আজিজুল মিয়া, খামার সিতাই পশ্চিম পাটের পঞ্চায়েত প্রতিনিধি অমরকুমার রায় ও খামার সিতাই পূর্ব পাটের তৃণমূলের বুথ সভাপতি সিরাজুল হক। তাঁরা জানান, অজান্তেই আবাস যোজনার তালিকায় ছিল। তা জানতে পেরেই নাম কাটার আবেদন করেন।

বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া জানান, দলের নির্দেশ মেনে দুই পঞ্চায়েত সদস্য, দলের এক বুথ সভাপতি নিজেদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে আবেদন জানান। বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আবাস যোজনায় প্রকৃত প্রাপকদের পরিবর্তে রাজ্যের শাসক দলের নেতা-কর্মীদের নাম রয়েছে। এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে।’’ সিপিএম নেতা শুভ্রালোক দাস জানান, আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

সিতাই ব্লকের বিডিও অমিতকুমার মণ্ডল জানান, গত ক’দিনে সিতাই ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে চার জন স্বেচ্ছায় আবাস তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে আবেদন করেছেন। এঁদের মধ্যে দু’জন পঞ্চায়েত সদস্য।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy