E-Paper

উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার ছবি বদলে দেওয়ার দৃঢ় পদক্ষেপ

২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আলিপুরদুয়ার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।এই পরিবর্তন উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রকে বদলে দেওয়ার দৃঢ় পদক্ষেপ।

আশুতোষ বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫২
আলিপুরদুয়ার কলেজ।

আলিপুরদুয়ার কলেজ। ছবি: সংগৃহীত।

আলিপুরদুয়ার জেলার উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে অনেক সংগ্রাম, স্বপ্ন, সফলতা আর বিফলতার কথা রয়েছে। স্বাধীনতার দশ বছর পরে ১৯৫৭ সালে আলিপুরদুয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার অভাব পূরণের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের সহযোগিতায় সেটি একটি সরকারি স্পনসর্ড কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আলিপুরদুয়ার কলেজ প্রথাগত শিক্ষাদানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও মাথায় তুলে নিয়েছিল। অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এই কলেজ শিক্ষান্তে কর্মজগতে প্রবেশ করেছেন। দেশের ভূগোল ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা নিয়েছে এই কলেজ।

ধীরে-ধীরে কলেজ প্রশাসনের মাথায় একটি প্রশ্ন আসে। কলেজটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদায় যদি নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে কেমন হয়? তাহলে নিজস্ব শিক্ষাক্রম, গবেষণা ও প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে জেলার পরিচায়ক তথা শতাব্দী প্রাচীন ডুয়ার্সের ঐতিহ্যকে পরিচর্যা করার সুযোগ হবে। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আলিপুরদুয়ার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।এই পরিবর্তন উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রকে বদলে দেওয়ার দৃঢ় পদক্ষেপ। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু শহরের নয়, বরং পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও জনপদবেষ্টিত সম্প্রদায়কেও শিক্ষার আলোয় স্নাত হতে উৎসাহিত করছে।

উচ্চশিক্ষার জন্য তখন একমাত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় আর কলকাতাস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ছিল। প্রত্যন্ত জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা প্রায় বাধ্য হয়েই সেখানে পড়াশোনা করতে যেত। উত্তরবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য তখন অনেকেই জেলাভিত্তিক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। তা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষক-প্রশাসকের দায়িত্ব বেড়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার সুবিধা, নতুন-নতুন বিষয়ের জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম রচনা—এ সব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাবতে হচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার দিকে দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেও এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্ট্যাটুট ছিল না। গতমাসের মাঝামাঝি তা গঠিত হয়েছে। কাজেই এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তার কর্মসমিতি, বোর্ড অফ স্টাডিজ়, গবেষণা পরিষদ ও বিভিন্ন পদের সৃষ্টি ও নতুন-নতুন কর্মমুখী সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম শুরু করতে পারবে। বর্তমানে প্রথাগত ১৪টি ও ন’টি ম্যানেজমেন্ট বিষয় পড়ানো হয়।

ডুয়ার্সের চা বলয় আর পর্যটন শিল্পের উপরে দাঁড়িয়ে আছে এখানকার অর্থনৈতিক ভিত্তি। সেই কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে টি, ফরেস্ট্রি এবং ট্যুরিজ়মের মতো বিষয়গুলি দেশ বিদেশের ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণ করেছে। জেলায় অবস্থিত নয়টি কলেজ অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন-নতুন গবেষণার দিক উন্মোচন, উদ্ভাবন আর কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে হবে। আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সেই প্রত্যাশার দিকেই এগিয়ে চলেছে—এটাই আগামীর পাথেয়।

অধ্যক্ষ, শামুকতলা সিধো-কানহো কলেজ, আলিপুদুয়ার

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Alipurduar WB Education

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy