Advertisement
E-Paper

দুর্নীতির প্রতিবাদ, খুন

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় দলেরই এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের পাটছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটনাটি ঘটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০১৭ ১৩:০১

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় দলেরই এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের পাটছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটনাটি ঘটে । পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের নাম সুভাষ রায় (৪৮)। পাটছড়া এলাকাতেই তাঁর বাড়ি।

অভিযোগ, এ দিন সকালে পার্টি অফিসে আটকে রেখে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় তাঁকে। বেলা ১১ টা নাগাদ পুলিশ গিয়ে সুভাষবাবুকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিকাল ৪ টা নাগাদ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।”

দলীয় সূত্রের খবর, ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ১০০ দিনের কাজ ও ইন্দিরা আবাসের ঘর বিলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী রতন বর্মন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইন্দিরা আবাস‌ে একটি ঘর পেয়েছেন তিনি। আর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই টাকা পাওয়ার কথা। তাঁর আগেই পাটছড়া অঞ্চলের উপপ্রধান কালীশঙ্কর রায় ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর কাছে কুড়ি হাজার টাকা দাবি করেন। তাঁর মতো আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা দাবি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কর্মী ও প্রাক্তন অঞ্চল কমিটির সদস্য সুভাষবাবু তার বিরোধিতা করেন। টাকা না দেওয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। এর জেরেই দলের ওই অংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।’’

অভিযোগ, এ দিন বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় সুভাষবাবুকে ঘিরে ধরে কালীশঙ্করববুরা। রিভলবার দেখিয়ে সেখান থেকে মারতে মারতে তাঁকে পার্টি অফিসে নিয়ে যায়। সুভাষবাবুর ভাই মানিক রায় বলেন, “বহু মানুষের চোখের সামনে দাদাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।”

কালীশঙ্করবাবুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তৃণমূলের কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক সভাপতি খোকন মিয়াঁ বলেন, “ওই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। দলের কেউ এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে যাওয়ার পরে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাতে কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর বীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘এই ঘটনাটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। যে বা যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’’

TMC worker Murder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy