প্রত্যেকে স্কুল-কলেজে পড়েন। পড়াশোনার মাঝেই তাঁরা এখন ছুটছেন প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। লক্ষ্য গ্রাম থেকে নারী পাচার আটকানো। কয়েকদিন আগে এক মাদক কারবারীকেও ধরে তুলে দিয়েছিলেন পুলিশের হাতে। বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শে এ ভাবে নেপাল সীমান্ত দিয়ে নারী পাচার রোধে কাজ করছে রিশপ, সৃজনা, রিতু, শ্রেয়া, রাজকুমার। সম্প্রতি তাঁরা নেপালে গিয়েও সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিয়ে এসেছেন।
বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ির বাসিন্দা তাঁরা। ‘ভয়েস ফর চেঞ্জ’ নামে গ্রুপ তৈরি করেছেন। যেখানে এখন সদস্য সংখ্যা ৫০ ছুঁইছুঁই। অধিকাংশ স্কুল কলেজপড়ুয়া। নেপাল সীমান্তে নারী পাচার রোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন পড়ুয়াদের এই সংগঠন। কী ভাবে গ্রাম ও চা-বাগানগুলি থেকে নারী পাচার হচ্ছে এবং কী ভাবে বোঝা যাবে কেউ পাচার হচ্ছে কিনা, তা জানতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সকলে।
কলেজ পড়ুয়া রাজকুমার গুরুংয়ের কথায়, “আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধতা রয়েছে কিছু। আমরা এগিয়ে এলে অনেককে পাচারের আগে আটকানো যাবে।”
লকডাউনের সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে ডুয়ার্স ও পাহাড়ের বহু যুবতীকে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সময় এই পড়ুয়ারা বিমানবন্দরেও নজরে রেখেছিলেন। পরে দেখা গিয়েছে, অনেকেই কাজের প্রলোভনে বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। এ ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে গিয়েও তাঁরা নারী পাচার ছাড়াও মাদক ব্যবহার রোধ, বধূ নির্যাতন রোধে সচেতনতা প্রচারের কাজ করে চলেছেন। বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন শ্রেয়া ছেত্রী।
এ দিন শ্রেয়ার কথা, “গ্রামগুলিতে দেখা যাচ্ছে, বহু যুবক মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে বাগডোগরাতেও এক যুবককে মাদক বিক্রির সময় কয়েকজন মিলে আমরা ধরে ফেলি। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নেপালে গিয়ে সেখানকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে নারী পাচার আটকাতে কী কী করণীয় সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দেখে বাকিরাও এগিয়ে আসুক, এটাই আমরা চাই।”