অভিযোগ উঠেছিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের। সেই ‘দায়ে’ গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি উঠল জলপাইগুড়িতে।
অভিযোগ, রাজা বসাক (২৩) নামে ওই যুবকের চোখ, হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর সুকান্ত নগর কলোনিতে। পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে দীনেশ বর্মণ, পরেশ বর্মণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও সাত জন ওই ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাজার সঙ্গে প্রতিবেশী এক মহিলার সম্পর্ক ছিল। সে সম্পর্কের জেরে মাস ছয়েক আগে এলাকায় গোলমালও হয়েছিল বলে দাবি। তার পরে অন্য একটি বচসায় জড়িয়ে পড়ায় রাজার মাসখানেকের জেল হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। দু’দিন আগে জেল থেকে ছাড়া পান রাজা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ দিন সকাল থেকে মদ্যপান করেন রাজা এবং তাঁর কয়েক জন সঙ্গী। মদ্যপ অবস্থায় রাজা ওই মহিলার বাড়ির পিছন দিয়ে ঘরে ঢোকেন বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। সেই সময় বাড়িতে ওই মহিলার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। পরিবারের এক মহিলা রাজাকে ও মহিলাকে এক ঘরে দেখে ফেলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য। তখনই দু’জনকে সে ঘরে আটকে রাখা হয় বলে দাবি। কেন রাজা বাড়িতে ঢুকেছেন, এ নিয়ে বচসার সূত্রপাত, জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, এর পরেই পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের লোকেরা রাজার উপর চড়াও হন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তখনও যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। যে মহিলার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজা, তাঁকে থানায় এনে জেরা করছে পুলিশ। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের ডিএসপি (সদর) সমীর পাল বলেন, ‘‘গণপিটুনির অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিলাকে জেরা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’