ক্লাস শুরু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে শিক্ষক শিক্ষিকারা কলেজে এসেছেন। এই অভিযোগ তুলে তাঁদের ঢুকতে দিলেন না ছাত্রছাত্রীরা। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার কলেজের ঘটনা।
পডুয়াদের দাবি, দশটা থেকে কলেজে উপস্থিত থাকেন তাঁরা। অথচ, উদ্ভিদবিদ্যা থেকে দর্শন-সহ বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস শুরুর নিদিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে আসেন শিক্ষক শিক্ষিরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় দিনই এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার কথা মেনে নিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশও। প্রসঙ্গত, গত মাসে ছাত্র ভর্তি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে ভাঙচুর চালায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদের নেতা ও বহিরাগতরা। কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য জহর মজুমদার বলেন, “ছাত্ররা দোষ করায় পরিচালন সমিতি ছাত্র সংসদ ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষকরা যদি তাঁদের কর্তব্য ঠিক মতো পালন না করেন তাহলে তাঁদের সঙ্গেও আমরা কথা বলব। শীঘ্রই পরিচালন সমিতির বৈঠক ডাকা হবে।”
এ দিন সকাল দশটায় দু’তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত হননি। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কলেজে ঢোকেন শিক্ষিকা জোৎস্না দাস। পড়ুয়ারা তাঁকে কলেজে ঢুকতে দেননি। ওই শিক্ষিকা স্বীকার করেন তাঁর কলেজে উদ্ভিদবিদ্যার ক্লাস ছিল সকলা দশটা থেকে। তিনি বাধা পেয়ে ফিরে যান। সাড়ে এগারোটা দিকে কলেজে আসেন শিক্ষক শোভনকুমার মণ্ডল। তিনিও বাধা পান। ওই শিক্ষক জানান, তার ক্লাস ছিল সাড়ে দশটা থেকে। কলেজের শিক্ষক কমনরুমে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বসে রয়েছেন শিক্ষিকা গৌরী প্রতিহার। তিনি জানান সকাল থেকে তিনজন শিক্ষক শিিক্ষকা এসেছেন। বাকিরা আসেনি। ওই শিক্ষিকা জানান, তাঁর দশটা থেকে সংস্কৃতের ক্লাস ছিল। কিন্তু পড়ুয়া না আসায় ক্লাস নিতে পারেননি।
কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মেঘনা রায়, নিশিগন্থা মজুমদাররা জানান তাদের ইংরেজির ক্লাস ছিল কিন্তু দশটার সময় শিক্ষকরা না আসায় ক্লাস হয়নি। এদিন দুপুর বারোটা পর্যন্ত কলেজে উপস্থিত হননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শুভজিৎ ধরও। তাঁকে ফোন করা হলে মোবাইল ফোনটি সুইচ অফ পাওয়া যায়। কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি অমিতাভ রায় বলেন, “ কলেজের পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখতে আমারা শিক্ষক শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসব।” তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা তথা কলেজের সদ্য ভেঙে দেওয়া ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বিল্টু সূত্র ধর বলেন, “আমার শিক্ষকদের সময় মতো আসার অনুরোধ জানিয়েছি। অধিকাংশ শিক্ষক সময় মত আসেন না এতে পঠন পাঠনে প্রভাব পড়ছে।”