Advertisement
E-Paper

উত্‌সাহ দিতে আখ চাষিদের ঋণ দেবে সমবায় দফতর

আখ চাষে উত্‌সাহ দিতে চাষিদের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সমবায় দফতর। চাষিরা যাতে আখ থেকে গুড় বাজারজাত করতে পারে, সে ব্যাপারেও সাহায্য করবে তারা। গুড় তৈরির জন্য যে মেশিনের প্রয়োজন হবে, তা কিনতেও চাষিদের ঋণ দেবে দফতর। সমবায় দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সমবায় মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর বিভিন্ন জেলায় ঘুরে এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৩৪

আখ চাষে উত্‌সাহ দিতে চাষিদের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সমবায় দফতর। চাষিরা যাতে আখ থেকে গুড় বাজারজাত করতে পারে, সে ব্যাপারেও সাহায্য করবে তারা। গুড় তৈরির জন্য যে মেশিনের প্রয়োজন হবে, তা কিনতেও চাষিদের ঋণ দেবে দফতর। সমবায় দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সমবায় মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর বিভিন্ন জেলায় ঘুরে এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন।

কোচবিহারের সমবায় গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ভগবান দেবশর্মা বলেন, “আখ চাষে উত্‌সাহ দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। সমবায় মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। আখকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সে জন্য আখ চাষ এবং গুড় উত্‌পাদন দু’টি ক্ষেত্রেই ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। দক্ষিণবঙ্গ-সহ বিভিন্ন জায়গায় ওই গুড় পাঠানোর ব্যাপারে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।” কোচবিহার জেলার সহ-কৃষি অধিকর্তা বলরাম দাসের বক্তব্য, “আখ চাষ যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। এখন খুব কম মানুষ ওই চাষ করছেন। তা থেকে লাভও হচ্ছে। চিনি ও গুড় উত্‌পাদন হলে আখের চাহিদা আরও বাড়বে।” কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের কৃষি আধিকারিক রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আখের চাষে অনেক কৃষক উত্‌সাহী। গ্রামের দিকে অনেকে গুড় তৈরিও করছেন।”

কৃষি দফতর সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়। বলরামপুর, বড়রাংরস, মোয়ামারি, ঝিনাইডাঙা, দোমুখা-নয়ারহাটে আখ চাষের ব্যাপক চল রয়েছে। দশ হাজারেরও বেশি কৃষক ওই চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আখ চাষে জমি তৈরি করে চারা রোপণ করা হলে আর তেমন কোনও অসুবিধে নেই। আগাছা পরিষ্কার করে দিলেই গাছ বড় হতে থাকে। আখ চাষি বাদল দাস, উপেন দাসরা জানান, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে প্রায় দশ হাজার টাকা খরচ হয়। আখ পরিণত হতে এক বছর সময় লাগে। এক বিঘা জমিতে পাঁচ হাজারের মতো আখ উত্‌পন্ন হয়। দফতরের দাবি, কোচবিহারের আখ যথেষ্ট ভাল মানের। বর্তমানে ওই আখ চাষিরা পুরোপুরি জেলার উপরেই নির্ভরশীল। বাইরে আখ পাঠানোর মতো কোনও ব্যাবস্থা কোচবিহারে নেই। কিছু কৃষক পরিবার আখ থেকে গুড় উত্‌পাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু তা বাজারজাত করার পরিকাঠামো সেভাবে না থাকায় চাষিরা বেশি পরিমাণে গুড় উত্‌পাদন করেন না। বিভিন্ন পুজোর সময়ে ৫ থেকে ১০ টাকা করে আখ বিক্রি হয়। কখনও কখনও তা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরেও বিক্রি হয়। এ ছাড়া আখের রসের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক পরিমাণেয় কৃষকদের অনেকে মেশিনের সাহায্যে আখের রস তৈরি করে তা বিক্রি করেন। জেলায় অন্তত ৫০০টি জায়গায় অস্থায়ী ভাবে আখের রস বিক্রি করা হয় ।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আখ চাষের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারীকরণের সঠিক ব্যাবস্থা না থাকায় চাষিদের অনেকেই আর চাষ বাড়াচ্ছিলেন না। এ ছাড়া গুড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন কিনতেও টাকার দরকার, তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। আখচাষিরা বলেন, ‘‘আখ যেটুকু চাষ করি, তাতে লাভ হয়। এর থেকে বেশি পরিমাণ উত্‌পন্ন করলে বাজার বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেক্ষেত্রে চিনি বা গুড় কারখানা হলে ভাল হয়।”

loan cooch behar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy