Advertisement
E-Paper

কলেজে ভাঙচুর, ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ পার্থর

ফের শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে হেনস্থা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বুধবার আলিপুরদুয়ার কলেজের ওই ঘটনার জেরে পরিচালন সমিতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নিগৃহীত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:০৫
ভাঙচুরের পরে আলিপুরদুয়ার কলেজের অধ্যক্ষের ঘর। ছবি: নারায়ণ দে।

ভাঙচুরের পরে আলিপুরদুয়ার কলেজের অধ্যক্ষের ঘর। ছবি: নারায়ণ দে।

ফের শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে হেনস্থা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বুধবার আলিপুরদুয়ার কলেজের ওই ঘটনার জেরে পরিচালন সমিতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নিগৃহীত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ঘটনাচক্রে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ভোটের প্রচারে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব রয়েছেন উত্তরবঙ্গেই। বুধবার রাতেই ঘটনার কথা জেনে পরিচালন সমিতির এক সদস্যকে ফোন করে তিনি কলেজের ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার ও দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন পরিচালন সমিতির একটি বৈঠক ছিল। তার আগেই দুপুর একটা নাগাদ কলেজে প্রথম বর্ষে ছাত্র ভর্তির দাবি তুলে ছাত্র সংসদের নেতা ও বহিরাগতরা মিলে চড়াও হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘরে। আচমকাই লাঠিসোটা, চেয়ার টেবিল টিভি ভাঙচুর শুরু হয়। কার্যত কাকুতি মিনতি করে রেহাই পান তিনি। রাতে পরিচালন সমিতির তরফে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। শৈলেনবাবু বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম বর্ষে ভর্তির তারিখ দিয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ২২-২৩ সেপ্টেম্বর করা হয়। এ দিন ছাত্র সংসদের কিছু নেতা ও বহিরাগতরা মিলে ভর্তির দাবি জানাতে আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আচমকাই ঘরে ভাঙচুর শুরু করে। কোনও মতে রেহাই পাই।”

কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি অমিতাভ রায় জানান, অধ্যক্ষের ঘরে প্রায় দু’লক্ষ টাকার সামগ্রী ভেঙে দিয়েছে আক্রমনকারীরা। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শৈলেন দেবনাথ পরিচালন সমিতির কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অমিতাভবাবু বলেন, ‘‘পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। আমরা ওনাকে অনুরোধ করেছি দায়িত্বে থাকতে। তবে কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে সিসিটিভি ভাঙার পাশাপাশি আক্রমকারীরা ফুটেজ সংরক্ষণ করার মেশিনটি নিয়ে গিয়েছে। আক্রমণের সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করা হয় বলেও জানতে পেরেছি।’’

পরিচালন সমিতির সদস্য জহর মজুমদার বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশে তিন জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কলেজের ছাত্র সংসদের যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হলে বহিষ্কার করা হবে।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। আশা করব কলেজ কর্তৃপক্ষ দোষীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।” এসএফআইয়ের জেলা সভাপতি মহানন্দ বিশ্বাস জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ। এর বিরুদ্ধে সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের রুখে দাড়ানো উচিত।

ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে থাকা ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি সুতীর্থ ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ‘‘বার বার কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে কলেজের গেটে নিরাপত্তারক্ষী রাখার জন্য। কলেজের পড়ুয়াদের পরিচয়পত্র দেখার পরেই কলেজে ঢোকানোর জন্য। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ বহিরাগতরা মিলেই কলেজের ভাঙচুর চালিয়েছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy