Advertisement
E-Paper

খাদানে দুর্নীতি রুখতে টাস্কফোর্স

অস্বস্তি এড়াতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির বালি খাদানে নজরদারিতে তড়িঘড়ি টাস্কফোর্স গঠন করল সেচ দফতর। গত বৃহস্পতিবার খাদানের ইজারাদারদের একটি সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাদানে দুর্নীতি নিয়ে নালিশ জানায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:১৩
জলপাইগুড়িতে করলা নদী পরিদর্শনে সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

জলপাইগুড়িতে করলা নদী পরিদর্শনে সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

অস্বস্তি এড়াতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির বালি খাদানে নজরদারিতে তড়িঘড়ি টাস্কফোর্স গঠন করল সেচ দফতর। গত বৃহস্পতিবার খাদানের ইজারাদারদের একটি সংগঠনের সদস্যরা সরাসরি সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাদানে দুর্নীতি নিয়ে নালিশ জানায়। দফতরের আধিকারিকদের লিখিত ভাবে জানালেও, কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাদানের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ থাকলেও, গত বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ্যে চলে আসে। দিনের পর দিন খাদান নিয়ে অনিয়ম চললেও, কর্তৃপক্ষ কেন পদক্ষেপ করেনি তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে খোদ সেচমন্ত্রীও সে দিন সাংবাদিক বৈঠকে খাদান প্রসঙ্গে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। উত্তরবঙ্গে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দু’দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার সেচমন্ত্রী শিলিগুড়িতে আসেন। দফতর সূত্রের খবর, এ দিন শুক্রবার জরুরি বৈঠক করেন সেচমন্ত্রী। খাদানের উপর নজরদারি চালাতে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। সেচ দফতরের উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সেচ আধিকারিক ছাড়াও, প্রতিটি এলাকায় পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় কমিটিও গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে ‘চেকগেট’ বসানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেচমন্ত্রী রাজীববাবু এ দিন বলেন, ‘‘দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে খাদানগুলিতে নজরদারি করতে টাস্কফোর্স গঠন করে দেওয়া হয়েছে। একজন চিফ ইঞ্জিনিয়র পদমর্যাদার আধিকারিক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান থাকবেন। তারপরেও কোথাও অনিয়ম চলছে কি না, জানার জন্য পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটিও থাকবে। কোনভাবেই খাদান নিয়ে ন্যূনতম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’’

তিস্তা, মহানন্দা, বালাসন থেকে শুরু করে ডায়না, সঙ্কোশ, করতোয়া, মূর্তির মতো নদীগুলি থেকে ‘পারমিটে’র পরোয়া না করেই বালি পাথ তোলা হয় বলে অভিযোগ। রাতের বেলায় নদী খাতে ট্রাক নামিয়ে প্রতিদিনই বালি-পাথর ‘চুরি’ চলতে থাকলেও, সেচ দফতর কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে দাবি। সেচ দফতরের থেকে নদীর খাদানগুলি বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ‘ইজারা’ দেওয়া হয়। যদিও, ইজারাদারদের অভিযোগ, পেশিশক্তির জোরে পারমিট না থাকলেও ট্রাকে চাপিয়ে প্রকাশ্যে বালি-পাথর নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে নকল পারমিট তৈরি করেও বালি-পাথর তোলা হয় বলে অভিযোগ। একটি পারমিট দেখিয়েই একাধিক খাদান থেকে অবৈধ ভাবে বালি-পাথর তোলার অভিযোগও রয়েছে, আবার বৈধ পারমিট থাকলেও, নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত বালি-পাথর তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই প্রবণতাগুলি চলতে থাকায় প্রতি মাসে সরকারি রাজস্বে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে ইজারাদার সংগঠনের অভিযোগ।

Advertisement

সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গে খাদানের অনিয়ম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। সেচ দফতরেরই কর্তাদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে উত্তরের নদীগুলির খাদান নিয়ে অভিযোগ জানাতে সেচমন্ত্রী-র উত্তরবঙ্গ সফরকেই বেছে নিয়েছিল ইজারাদারদের সংগঠন। সংবাদমাধ্যমের সামনেই মন্ত্রীকে নালিশ জানান তাঁরা। তারপরেই নড়ে বসে দফতর। সংগঠনের সম্পাদক নূর আলির কথায়, ‘‘সেচমন্ত্রী আমাদের ফোন নম্বর নিয়েছেন। পরে আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। দেখা যাক কী পদক্ষেপ হয়।’’

শুক্রবার সেচমন্ত্রী কলকাতায় ফিরে গিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই ফের উত্তরবঙ্গে এসে খাদান নিয়ে বৈঠক করবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy