গত অগস্ট মাসের ১০ তারিখে চ্যাড়াবান্ধায় দুই দেশের জেলাশাসক পর্যায়ের সভার সূত্র ধরে বুধবার হলদিবাড়ি থানার সীমান্তবর্তী ডাঙাপাড়ায় কাঁটাতারের বেড়ার ৩ নম্বর গেটের কাছে ভারত এবং বাংলাদেশের দুই দেশের স্থানীয় আধিকারিকেরা একটা সভায় মিলিত হন। বিষয় ছিল বাংলাদেশে অবস্থিত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণ। সভার মিলিত ভাবে কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়।
বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায় যে হলদিবাড়িতে মোট ৪৬৭ জন বাসিন্দা বাংলাদেশের ছিটমহলগুলি থেকে হলদিবাড়িতে আসবেন। তাদের মধ্যে দহলাখাগড়বাড়ি এবং বেহুলাডাঙা ছিটমহল থেকে ৪০৬ জন, কাজলদিঘি ছিটমহল থেকে ৫৭ জন এবং গড়াতি ছিটমহল থেকে ৪ জন আসবেন।
বাংলাদেশের দলনেতা পঞ্চগড় জেলাসদরের সহকারি কমিশনার ভূমি ইলিয়াস মেহেদি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেসমস্ত ছিটমহলের বাসিন্দা ভারতে আসবেন তাদের আসবার পথ এবং অন্যান্য কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা দুই দেশের প্রতিনিধিরা সমস্ত বিষয়ে সহমত পোষন করি।” ভারতের দলনেতা হলদিবাড়ির বিডিও দিব্যেন্দু মজুমদার বলেন, “সভায় যে সব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, সেগুলি কোচবিহারের জেলাশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
দুই দেশের মিলিত সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রস্তাব রাখা হয় যে যে বাংলাদেশ থেকে যারা আসবেন তারা ডাঙাপাড়ার ৩ নম্বর গেটের মধ্যে দিয়ে অথবা ঐ গেটের কাছে হলদিবাড়ি ও বাংলাদেশের মধ্যে পুরোন পরত্যক্ত রেলপথের একটি ব্যবহার করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত তারা বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশের গাড়িতে করে সাড়েচার কিলোমিটার দূরে হলদিবাড়ি কৃষিফার্মের মাঠে যাতে সরাসরি যেতে পারেন সে বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়। তৃতীয়ত ডাঙাপাড়ায় তিন নম্বর গেটের কাছে অভিবাসন, শুল্ক, স্বাস্থ্য দফতর সমেত পাঁচটি কাউন্টার করা হবে। চতুর্থত যারা আসবেন তাদের একবারে না নিয়ে এসে ছোট ছোট দলে দফায় দফায় আসার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সভায় বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডদের পক্ষ থেকে টাকা আনার উর্দ্ধসীমা, গরু এবং সোনা আনা এবং নিজস্ব জিনিশপত্র ছাড়াও অনুমোদিত জিনিশপত্র কতটা আনতে পারবেন সে বিষয়গুলি বিবেচনার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়।