হস্টেলে ঢুকে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ বারবার ভাঙচুর চালালে এবং হুমকি দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ উদাসীন বলে অভিযোগ তুলল ছাত্ররা। সোমবার ওই অভিযোগে ডাবগ্রামে শিলিগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের গেট আটকে দুই ঘন্টা ধরে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্ররা। অভিযোগ, সরস্বতী পুজোর দিন রাতে নিউজলপাইগুড়ি এলাকায় জাবরভিটাতে পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রদের হস্টেলে ঢুকে ভাঙচুর করে স্থানীয় বাসিন্দা তথা বহিরাগতদের একটি দল। ছাত্রদের টাকা, মোবাইল তারা লুঠ করেছে বলেও অভিযোগ। অথচ সুপার, কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে সরব হয়েছে ছাত্ররা।
এ দিন অধ্যক্ষ-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেয় উত্তেজিত ছাত্ররা। হস্টেল সুপারের ভূমিকা নিয়ে কলেজের গেটে পোস্টারও দেয় তারা। ঘটনার জেরে এ দিন কলেজের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের বোঝানো হয়, কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যক্ষ হস্টেলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পুলিশেও অভিযোগ করবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর বেলা সাওয়া বারোটা নাগাদ কলেজের গেট থেকে অবস্থান তুলে নেয় ছাত্ররা। ছাত্রদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার জন্য বৈঠক ডাকা হয়। হস্টেলে কী হয়েছে, তা লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়।
প্রায়শই রাতে হস্টেলে হইহল্লা হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, তাতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রাত দুটো তিনটে পর্যন্ত হইচই, গিটার বাজিয়ে গানবাজনার জেরে হস্টেল লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দাদের সমস্যা হয় বলে তাঁরা আগেও একাধিকবার বার বলেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দু’দিন আগে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ গভীর রাতে হস্টেলে ঢুকে চেয়ার টেবল, ছাত্রদের গিটার ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই ছাত্রদের সঙ্গে বাসিন্দাদের ওই সমস্যা চলছে। হস্টেলে রাত পর্যন্ত ছাত্ররা গানবাজনা, হইচই করে বলে বাসিন্দারা পাল্টা অভিযোগ করেন। গোলমালের খবর পেয়ে ওই দিন পুলিশকে ফোনে জানানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ ঘটনার দিন নিরাপত্তা রক্ষী অধ্যক্ষকে খবর দিলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে একজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকলেও বাসিন্দারা দল বেঁধে গেলে তাঁর পক্ষে সামলানো মুশকিল হয়। তবে সুপার হস্টেলে না থাকায় সমস্যা হচ্ছে বলেই অনেকে মনে করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, হস্টেলটি দূরে বলে সুপাররা কেউ থাকতে চান না। তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। হস্টেল সুপার অতনু চক্রবর্তী জানান, ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হস্টেলে গিয়েও সব দেখা হয়েছে। পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কলেজের শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন হস্টেলের আশেপাশে প্রচুর বসতি থাকায় ছাত্ররা রাত জেগে পড়াশোনা, হইচই করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রদের অভিযোগ, বহিরাগতরা বারবার হস্টেলে চড়াও হওয়ায় তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। ইলেকট্রিক্যাল, টেলিকম, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, সিভিল বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ১২০ জন ছাত্র রয়েছেন হস্টেলে। তারা বারবার সমস্যার কথা বললেও হস্টেল সুপার কেন উদাসীন, তা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। জবাব চেয়ে এ দিন পোস্টার দেয় ছাত্ররা। কয়েকজন ছাত্রের অভিযোগ, তাদের কারও কাছ থেকে ১২০০ টাকা, কারও ১ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে বহিরাগতরা।