Advertisement
E-Paper

ছাত্রনেতাকে সতর্ক করলেন অধ্যক্ষ

শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেদার মদ্যপানের আসর বসানোর অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন ওঠায় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদককে ডেকে সতর্ক করলেন অধ্যক্ষ। গত শনিবার শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর মাঠে নেশা করে বেঁহুশ অবস্থায় পড়ে থাকা এক ছাত্র প্রতিনিধি তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিন কলেজের ভিতরেই পড়ুয়াদের একাংশ ব্যাপক মদ্যপানের আসর বসায় বলে অভিযোগ।

সৌমিত্র কুণ্ডু

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৮
এ দিনও কলেজে দেখা গিয়েছে মদের বোতল। নিজস্ব চিত্র।

এ দিনও কলেজে দেখা গিয়েছে মদের বোতল। নিজস্ব চিত্র।

শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেদার মদ্যপানের আসর বসানোর অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন ওঠায় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদককে ডেকে সতর্ক করলেন অধ্যক্ষ। গত শনিবার শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর মাঠে নেশা করে বেঁহুশ অবস্থায় পড়ে থাকা এক ছাত্র প্রতিনিধি তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিন কলেজের ভিতরেই পড়ুয়াদের একাংশ ব্যাপক মদ্যপানের আসর বসায় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকদের দিকেই। কলেজ ভবনের বিভিন্ন জায়গায় এখনও মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সোমবারও ক্যাম্পাসে বয়েজ হস্টেল লাগোয়া কলেজের একতলা ভবনে ছাদে ওঠার সিঁড়িতে, ছাদে অনেকগুলি মদের বোতল গড়াগড়ি খেতে দেখা গিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অধ্যক্ষ অসীম মুখোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘কলেজের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। কলেজের টিচার্স কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী করা যায় তা ভাবা হবে। কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদককে এ দিন জানানো হয়েছে এ সব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তারা সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে না পারলে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না।’’ বিষ্ণু ঠাকুর নামে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য যে ছাত্রকে নেশা করে বেঁহুশ অবস্থায় মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয় তার অভিভাবককে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কেন এ ঘটনা ঘটেছে তা জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবা হবে বলে জানানো হয়েছে। কলেজের তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিথিলেশ শাহ বলেন, ‘‘অধ্যক্ষ ডেকে সতর্ক করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরাও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছি।’’

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় বলেন, ‘‘আমরাও কলেজের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই সমর্থন করি না। যে ছাত্রটিকে উদ্ধার করা হয়েছে তার সঙ্গে সে দিন আর কে কে ছিল দলের তরফে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ সেই সঙ্গে নির্ণয়বাবুর দাবি, কলেজের সীমানা প্রাচীর নতুন করে তৈরি করতে ভাঙা হয়েছে। সে জন্য অনুষ্ঠানে বহু বহিরাগত কলেজে ঢুকেছে। তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

সীমানা প্রচীরের জন্য সমস্যা যে হতে পারে তা কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশেরও ধারণা। তাঁদের দাবি, সীমানা প্রাচীর থাকলে কলেজের গেট দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের দেখে তবেই ক্যাম্পাসে ঢোকার ব্যবস্থা করা হয়। পাঁচিল না থাকায় বহিরাগতদের আটকানো যায়নি। পরবর্তীতে কোনও হল ভাড়া করে নিদির্ষ্ট গেট দিয়ে প্রবেশ পত্রের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠানে ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বিরোধী বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সৌরভ দাস বলেন, ‘‘কলেজের মধ্যে মদ খেয়ে পড়ে থাকছে টিএমসিপি’র ছাত্ররা। ওই দিন আরও কী কী হয়েছে তা খোঁজ নিলেই বুঝতে পারবেন কলেজ কর্তৃপক্ষের। কলেজের সম্মান নষ্ট করছে ওই ছাত্ররা। কর্তৃপক্ষের উচিত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy