ধূপগুড়ির মধ্যপাড়ায় খুন হওয়া নাবালিকার বাবা ও মামার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল জলপাইগুড়ি আদালত। নাবালিকা খুনের প্রধান সাক্ষী নিতাই সিংহ রায়কে খুনের অভিযোগে চল্লিশ দিন জেল বন্দি থাকেন তাঁরা। শুক্রবার সেশন কোর্টে অভিযুক্তদের জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। সরকারি আইনজীবী বিরোধিতা করলেও বিচারক দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আবেদন মঞ্জুর করেন।
সরকারি আইনজীবী সোমনাথ পাল বলেন, “খুনের সঙ্গে ওঁরা যে জড়িত সেটা জানিয়ে জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ বার হাইকোর্টে যাওয়া হবে।” এ দিন নাবালিকার বাবা ও মামার পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে সাওয়াল করেন আইনজীবী শঙ্কর দে এবং সমীর দাস। তাঁরা বলেন, “আদালতে জানানো হয় ধৃতদের মামলার সাক্ষী খুন হয়েছেন। তাঁকে ওঁরা খুন করবেন কেন! আসলে এক সাক্ষীকে খুন করে অন্যদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা হয়েছে।” নিম্ন আদালতে দুই দফায় জামিনের আবেদন জানিয়ে লাভ না হওয়ায় ২২ ডিসেম্বর দুই আইনজীবী সেশন কোর্টের দ্বারস্থ হন। ২ জানুয়ারি ওই আবেদনের শুনানির দিন থাকলেও এক আইনজীবীর মৃত্যুর জন্য আদালতের কাজ বন্ধ থাকায় তা হয়নি। শুক্রবার শুনানি হলেও নাবালিকার বাবা ও মামাকে এ দিন আদালতে আনা হয়নি।
২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে সালিশি সভা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পরের দিন রেল লাইন থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। গত বছরের ২ নভেম্বর সকালে ধূপগুড়ি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়ার ধান খেত থেকে মেলে নাবালিকা খুনের মামলার প্রধান সাক্ষী নিতাইবাবুর দেহ। ঘটনার পরে নিতাইবাবুর স্ত্রী নমিতাদেবী নাবালিকার বাবা ও মামা-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। ২৮ নভেম্বর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নাবালিকার তাঁদের গ্রেফতার করে। ২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হন রবি হোসেন নামে আর একজন। ওই দিনই নাবালিকার বাবা ও মামাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পাঁচ দিন নিজেদের হেফাজতে নেয়। এর পরে আদালতে তোলা হলে ধৃতদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
১১ ডিসেম্বর ফের দু’জনকে আদালতে তোলা হয়। দুই আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালেও খারিজ করেন বিচারক। এ দিকে ধৃত নাবালিকার বাবা ও মামাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জেলা জুড়ে আন্দোলনে নামে সিপিএম। ২১ ডিসেম্বর ধূপগুড়ি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পথে নামেন প্রাক্তন সাংসদ মিনতি সেন-সহ অন্য সিপিএমের মহিলা নেতৃত্ব। দলের ধূপগুড়ি ১ লোকাল কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, “আদালতের উপরে আমাদের আস্থা আছে। তাই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”