পুজোর আগেই খুলে যাবে পর্যটনের চারটি নতুন কেন্দ্র। এদের মধ্যে দু’টিতে থাকছে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা। অন্য দুটিতে বিশ্রাম এবং খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। ডুয়ার্সের মালবাজার মহকুমার এই চারটি কেন্দ্রেরই এখন শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি মালবাজার ব্লকের পশ্চিম ডামডিম মেটেলি ব্লকের মঙ্গলবাড়িতে পর্যটকদের জন্যে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য দু’টি চালসা লাগোয়া শালবাড়ি মোড়ের সাতখাইয়াতে এবং মেটেলি লাগোয়া রাষ্ট্রভাষা স্কুলের কাছে। পর্যটকদের বিশ্রাম ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে চারটি ভবনই নির্মাণ শেষের পর পর্যটন দফতরকে পরিচালনার দায়িত্বভারও তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চারটি পর্যটনকেন্দ্রই যেহেতু আদিবাসী বাসিন্দা অধ্যুষিত এলাকায় তৈরি, তাই সরকারি এই চারটি পর্যটন কেন্দ্রতেই স্থানীয়দের জড়িত করার দাবি তুলেছেন নাগরাকাটার কংগ্রেস বিধায়ক জোশেফ মুন্ডা। বৃহস্পতিবার বিধায়ক জোশেফ মুন্ডা জলপাইগুড়ির জেলাশাসক পৃথা সরকারের সঙ্গে দেখা করে স্বনির্ভরগোষ্ঠীর মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলি চালানোর দাবি করেন। জোশেফ মু্ন্ডার কথায় ডুয়ার্সে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বাসিন্দাদের পর্যটন মনস্ক করে গড়ে তুলতে পর্যটনের ঠিকানাগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় যোগদানের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তা হলে, এলাকাবাসীরা যেমন উপকৃত হবেন তেমনি পর্যটকেরাও স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। জোশেফের কথায় শিক্ষিত এবং গৃহবধূদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে সুযোগ দিয়ে তাঁদের দিয়ে এই চারটি কেন্দ্র চালানোর দাবি তুলেছি। পুরো বিষয়টি রাজ্য পর্যটন দফতরকেও জানাবেন বলে জানান জোশেফ। এদিকে রাজ্য পর্যটন দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা সুনীল অগ্রবাল বলেন, ‘‘মালবাজার মহকুমার চারটি নতুন কেন্দ্র ছাড়াও ময়নাগুড়ির খুকসিয়া, বানারহাট লাগোয়া চামুর্চিতেও নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এই দুটিতে আমরা স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতিকে জড়িয়ে সাধারণ মানুষদের শরিক করতে উদ্যোগী হয়েছি। মালবাজার মহকুমার চারটি কেন্দ্রের জন্যে অবশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার মূল্যায়নপর্ব শুরু হয়েছে। তবে বিধায়ক এ বিষয়ে দাবি জানালে সেটিও আমরা খতিয়ে দেখব।’’
উল্লেখ্য দ্বিশয্যাবিশিষ্ট একটি ঘরের একরাতের খরচ একহাজার থেকে দেড়হাজার টাকার মধ্যে রাখা হবে বলেই পর্যটন দফতর সূত্রের খবর। ইন্টারনেটের মাধ্যমেও ঘর সংরক্ষণের সুযোগ মিলবে বলেও জানা গেছে। ডুয়ার্সের সরকারি বনবাংলো গুলোতে থাকতে দুই থেকে তিনহাজার টাকা খরচ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জঙ্গল লাগোয়া পরিবেশে পশ্চিম ডামডিম এবং মঙ্গলবাড়ির মতো কেন্দ্রগুলি সহজেই জনপ্রিয় হবে বলেই আশা পর্যটন দফতরের।