ছোট ট্রাকের ধাক্কায় পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যুর জেরে বাসিন্দাদের বিক্ষোভে তেতে উঠল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। শনিবার সকালে চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুরগামী ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের রহমতপুরে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, মৃত শিশুর নাম সঞ্জু খাতুন। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি। তাড়া করে বাসিন্দারা চালককে ধরে ফেলেন। এরপরেই ক্ষতিপূরণের দাবি ও জাতীয় সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিশুর দেহ আটকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশো বাসিন্দা।
ছ’ঘণ্টা ধরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের জেরে চূড়ান্ত নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুরের মধ্যে যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিকেল চারটে নাগাদ পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠলে শিশুর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় জানান, চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুর বাবা সাইদুল ইসলাম ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। তিন মেয়ের মধ্যে মেজো ছিল সঞ্জু। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়াশোনা করত সে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রহমতপুর এলাকায় জাতীয় সড়কের দুপাশে এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জনপদ রয়েছে। দিনভর বেপরোয়াভাবে যান চলাচল করলেও পুলিশের কোনও হেলদোল নেই। বেশ কয়েকবার এলাকায় ডিভাইডার তৈরির দাবি জানানো হলেও ফল হয়নি বলে অভিযোগ।
এই কিশোরী ছাড়াও হরিশ্চন্দ্রপুরে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। খিদিরপুরের মামু মোড়ে শুক্রবার রাতে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফেরার সময় ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হয় বেলাল হোসেন (৬১) নামে এক প্রৌঢ়ের। রাতে গড়গড়ি এলাকায় হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশনগামী রাস্তায় যন্ত্রচালিত ভ্যানের সঙ্গে বাইকের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন দুই বাইক আরোহী। শনিবার সকালে মৃত্যু হয় রফিকুল ইসলামের (৩০)। তাঁর বাড়ি করণদীঘি এলাকায়।