মিরিক এলাকায় ধসে বিধ্বস্ত পরিবারগুলিতে স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগী হল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে, মিরিকের সৌরিণি এলাকায় টিংলিং চা বাগানের লিম্বু গাঁও বস্তিটিকে লাগোয়া চা বাগান এলাকায় নতুন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিরিক-সৌরিণি এলাকার জিটিএ সদস্য অরুণ সিংগে জানিয়েছেন, সৌরিণি এলাকায় বহু গ্রামের ক্ষতি হয়েছে। বহু বাসিন্দা বাড়িঘর হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে আছেন। আমারা তাঁদের স্থায়ী পুনর্বাসন দেব বলে ঠিক করেছি। সিংবুলি চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জমি দিতে রাজি হয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের জমিটি দেখাবেন। তা দেখার পর জায়গাগুলি চূড়ান্ত করা হবে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ভূবিজ্ঞানীদের আমরা চিহ্নিত এলাকাটি দেখিয়ে মতামত দিতেও অনুরোধ করব।
সিংবুলি চা বাগানের চারটি ডিভিশন রয়েছে। তার একটি ধসে বিধ্বস্ত টিংলিং ডিভিশন। জিটিএ সদস্য জানান, সৌরিণি এলাকায় ১৩ টির মত পাহাড়ি বস্তি রয়েছে। সেখানকার ৭০০ মত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই পরিবারগুলিকে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিপদজনক অবস্থায় থাকা বাড়ির মালিকেরা দফায় দফায় পুনর্বাসন পাবেন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ১৯০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এই টাকায় পাকা বাড়ি করা সম্ভব হবে না। তাই জিটিএ থেকেও আমরা আরও কিছু টাকা দেব।
এ দিন জিটিএ-র প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিংহ, সমস্ত দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরের জিটিএ সদস্য, বাস্তুকার এবং অফিসারেরা দার্জিলিঙে একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে দার্জিলিঙের বিধায়ক ত্রিলক দেওয়ানও উপস্থিত ছিলেন। জিটিএর তরফে জানানো হয়েছে, ধস পরবর্তী পরিস্থিতি, ত্রাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অত্যাবশকীয় পণ্য সামগ্রী, জল কোথাও কেমনভাবে সরবরাহ হচ্ছে। আরও কতটা দরকার তা নিয়ে কথা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা, স্কুল, কলেজ, সরকারি দফতরগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত সেগুলির সংস্কার কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। পরবর্তীকালে কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে সামগ্রিক পরিস্থিতির কথাও জানানো হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন জিটিএ চিফ বিমল গুরুঙ্গ কালিম্পঙের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন।
এ দিন পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বিকালে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে শ্বেতীঝোরাতেই ফের ধস নেমেছে। সীমান্ত সড়ক সংস্থার তরফে দ্রুত রাস্তা খোলার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।