Advertisement
E-Paper

পুজোর আগেও মাইনে অমিল চাঁচল কলেজে

পুজোর আগেও মাইনে পেলেন না মালদহের চাঁচল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। গত তিন মাস ধরে মাইনে পাচ্ছেন না কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। প্রথমে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে ও পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বেনিয়মের অভিযোগে জুলাই মাস থেকে তাঁদের বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৪৮

পুজোর আগেও মাইনে পেলেন না মালদহের চাঁচল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। গত তিন মাস ধরে মাইনে পাচ্ছেন না কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। প্রথমে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে ও পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বেনিয়মের অভিযোগে জুলাই মাস থেকে তাঁদের বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগে সমস্যা মিটে গিয়ে মাইনে মিলতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার থেকে কলেজে পুজোর ছুটি শুরু হয়ে গেলেও মাইনে নিয়ে সমস্যা না মেটায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ।

কলেজের প্রশাসক বিকাশ রায় বলেন, ‘‘শিক্ষকদের মাইনে সংক্রান্ত ফাইলের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু শিক্ষা দফতরে যিনি বিষয়টি দেখছেন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় পুজোর আগেও মাইনে হল না। আগামী ২৮ তারিখ কলকাতায় গিয়ে দেখব যাতে মিটে যায়।’’

গত অগস্ট মাসের ২০ তারিখে কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বসেন শিক্ষক তপেশ লাহিড়ী। আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদটি খালি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী অধ্যক্ষ কাজে যোগ না দেওয়া পর্য়ন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম তথা স্ট্যাটিউট রয়েছে। এক্ষেত্রে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তথা টিআইসি নিয়োগ হওয়ার কথা। সিনিয়র কেউ হতে না চাইলে তাঁর যে আপত্তি নেই তা জানিয়ে দিতে হয়। কিন্তু পাঁচজন সিনিয়রকে টপকে তপেশবাবুকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে বসানো হয়। এদের মধ্যে তিন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে আগ্রহী নন বলে জানালেও বাকি দুই শিক্ষক তা দেননি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মাইনের বিলে আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বাক্ষর না করায় জুলাই মাসের মাইনে আটকে যায়। তারপর ২০ অগস্ট ওই পদে দায়িত্ব নেন তপেশবাবু। কিন্তু দুই সিনিয়র শিক্ষক অনিতা চক্রবর্তী ও সিরাজুল ইসলামের যে আপত্তি নেই তা তাঁরা জানাননি। ফলে ধরে নেওয়া যায় যে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে আগ্রহী ছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ জানাননি। কিন্তু নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য ডিপিআই তথা কলেজ শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠানো হয়। তখনই বিষয়টি নজরে এলে অগস্ট থেকে মাইনে বন্ধ করে দেয় দফতর।

প্রশাসকের দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে হলে পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে রয়েছে। তাই সিরাজুল ইসলামকে করা হয়নি। আর অনিতাদেবীর নামে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ পরিচালন সমিতির সভায় রেজ্যুলেশন করা রয়েছে। তাই তাঁদের করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘পুজোর মুখেও মাইনে না হওয়ায় কলেজে ভর্তির টাকা থেকে তা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাজি হননি।’’ তপেশবাবু এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

শিক্ষিকা অনিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমি এক সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলাম। আমাকে অন্যায়ভাবে সরানো হয়েছিল। সিনিয়র হিসেবে দায়িত্ব নেব না তা লিখিত ভাবে আমি বলতে পারি না। আর্থিক বেনিয়মের কথা বললেই তো হল না, প্রমাণ করুক। আমি যে টাকা খরচ করেছিলাম তার সব হিসেব ইউজিসি-কে দেওয়া হয়েছে। বেনিয়ম হলে ওরা আমাকে ছাড়ত নাকি!’’

এই পরিস্থিতিতে কবে কলেজের শিক্ষকরা মাইনে পাবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কয়েক জন শিক্ষাকর্মী বলেন, ‘‘তিন মাসের মাইনে পাইনি। পুজোর ছুটি হয়ে যাওয়ায় অক্টোবর মাসের মাইনেও পাওয়া যাবে না। এর পর কী ভাবে চলবে কে জানে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy