সেই আদ্যিকালের সেবকই হারিয়ে দিল নতুন গজিয়ে ওঠা পিকনিক স্পটগুলিকে।
বছরের প্রথম দিনে তিস্তার চরে যেন জনজোয়ার! ছোট বড় গাড়ি, বাস, ট্রাক দখল নিয়েছে তিস্তার। সর্বত্রই সারা দিন ধরে পিকনিকের আয়োজনে ব্যস্ত ছিল জনতা। পুরোনো চাল ভাতে বাড়ার কথা মনে করিয়ে নিত্য নতুন পিকনিক স্পটকে ১০ গোল দিয়ে বাজিমাত করে দিল সেই আদ্যিকালের পিকনিক স্পট সেবকই।
শিলিগুড়ি, মালবাজার দু’দিক থেকেই একের পর এক পিকনিকের গাড়ির গন্তব্য ছিল সেবক। সকাল ১০টাতেই কানায় কানায় ভরে যায় সেবকের তিস্তার চর। দেরিতে আসা পিকনিকের দলগুলি এরপর ক্রমাগত সেবকের রেলসেতুর নীচে দিয়ে করোনেশনের দিকে তিস্তার চর ধরে এগিয়ে আসতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেবক এবং মংপং ফাঁড়ির পুলিশ গাড়িও রাস্তা ছেড়ে তিস্তার চরে নেমে যায়। এই দুই ফাঁড়ির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবারে ১২০টিরও বেশি দল সেবকে পিকনিক করতে আসে।
প্রায় ৮ হাজার মানুষ সেবকের তিস্তার চরে পিকনিকে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর। দিনহাটা থেকে অমিতাভ সাহা, কুশল বসু, শিলিগুড়ির রমেশ সিংহ, চৈতালী দত্ত, মালবাজারের বিশ্বজিৎ পাল এ দিন সেবকে পিকনিক করতে এসেছিলেন। সকলের কথাতেই একটাই সুর। মালবাজারের বিশ্বজিতের কথায় যেমন অনেক পিকনিক স্পট থাকলেও পিকনিকের ক্ষেত্রে সেবক যেন হেরিটেজের ঐতিহ্য বহন করে। তিনি বলেন, ‘‘তাই এখানেই আমরা স্বচ্ছন্দ্য বোধ করি।’’ বিকেলের পর যখন একে একে পিকনিকের দলগুলির ঘরে ফেরার পালা, তখন সেবক বাজার থেকে করোনেশন পর্যন্ত লম্বা গাড়ির লাইন। শুধু পিকনিকের গাড়ির জন্যেই শেষ কবে সেবকে যানজট হয়ে গিয়েছিল তা মনে করতে পারেননি কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশরাও।
নতুন বছরের প্রথম দিনে চড়ুইভাতি করতে ব্যাপক ভিড় হয় গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া মূর্তি নদীতে।
গাড়ির ভিড়ে নদীর উপরের সেতুতে যানজট। শুক্রবার দীপঙ্কর ঘটকের তোলা ছবি।
সেবকের পরেই স্থান পাবে ডুয়ার্সের মূর্তি। নতুন বছরের প্রথম দিনেই মূর্তির চরে তিল ধারণের পরিস্থিতি ছিল না। মালবাজারের থেকে পিকনিক করতে আসা নিশান ঘোষের কথায়, ‘‘মালবাজার থেকে মাত্র আধ ঘন্টা দূরত্বেই মূর্তি। জঙ্গল, নদী সবই এক সঙ্গে পেয়ে যাই এখানে। তাই মূর্তিই আমাদের পছন্দের গন্তব্য।’’
সেবকে সূর্যাস্তের পরেও শেষ বারের মতো সাউন্ডবক্সে গানের তালে উদ্দাম নৃত্য শোনা গিয়েছে এ দিন। শিলিগুড়ির রাজেশ সরকারের কথায়, ‘‘সারা বছর লক্ষ্যপূরণের বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে এই রকম একটা দিন কাটাবার যে কী মজা, সেটা বুঝতে বুঝতেই যেন সন্ধ্যা নেমে গেল। তাই বাড়ি ফিরতে মন চাইছে না।’’