Advertisement
E-Paper

প্রবন্ধ-বিতর্কের বিষয় নির্বাচনে কি রাজনীতি, প্রশ্ন

পুজো কমিটির আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয়: ‘রাজনীতি কি শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য ডেকে আনে?’ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিষয়: ‘পর্যটন প্রসারের সম্ভাবনা’। জলপাইগুড়ি যুব মঞ্চ এ বছর পুজো মণ্ডপেই এ সমস্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:০২

পুজো কমিটির আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয়: ‘রাজনীতি কি শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য ডেকে আনে?’ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিষয়: ‘পর্যটন প্রসারের সম্ভাবনা’। জলপাইগুড়ি যুব মঞ্চ এ বছর পুজো মণ্ডপেই এ সমস্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। পুজো কমিটির সম্পাদক জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল শহর সভাপতি মোহন বসু। কমিটির সভাপতি জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী। সৌরভবাবু জেলা তৃণমূলেরও সভাপতি। পুজো আয়োজনের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই বলে যুব মঞ্চের উদ্যোক্তারা বরাবরই দাবি করেন। তবে বির্তক এবং প্রবন্ধের বিষয় বাছাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সম্প্রতি রাজ্য জুড়েই বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। সেই তালিকায় জেলার কয়েকটি কলেজও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগ আছে, এমন একটি পুজো কমিটির বিতর্কের বিষয় হিসেবে ‘শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি: ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্কের পরিপন্থী’ বেছে নেওয়ার পেছনে অন্য ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাক্ষেত্রে অশান্তি বা অচলাবস্থা যে কোনও পরিস্থিতিতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, সেটাই বিতর্কের বিষয় নির্বাচন করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের আবার দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য প্রসঙ্গ উঠলেই, শাসক দলকে দায়ী করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। কিন্তু শাসক দলের নেতৃত্ব যে আদতেও শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করেন না, এই বিষয় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে কৌশলে তার বার্তাও দিয়ে রাখা হল বলে একাংশের ব্যাখ্যা।

পুরসভার চেয়ারম্যান মোহনবাবু অবশ্য বলছেন, ‘‘পুজোর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রকে পবিত্র, সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে হয়। এটা সকলেই বিশ্বাস করেন। সে বিষয়ে বির্তক হওটায়াই তো সুস্থতার লক্ষণ।’’ একই সুরে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভবাবুও বলেন, ‘‘আমরা চাই সব বিষয়ে সচেতনতা। পুজো সামাজিক উৎসব। সেই উৎসবেও সচেতনতার কাজ চললে তো ভালই।’’

অন্য দিকে, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতাতেও জলপাইগুড়িতে পর্যটন প্রসারের বিষয় রাখা হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার জলপাইগুড়ি সহ ডুয়ার্সের পর্যটনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করেন। জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া করলা নদীকে ঘিরেও পর্যটনের পরিকল্পনা হয়েছে। এই পরিস্থিতে পড়ুয়াদের লেখা প্রবন্ধে পর্যটন প্রসারের সম্ভাবনা বিষয় স্থির করায়, নানা নতুন প্রস্তাবও পাওয়া যেতে পারে বলে পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দাবি। দু’টি প্রতিযোগিতাই আগামী ১২ নভেম্বর হবে বলে জানানো হয়েছে।

বরাবরই কালীপুজোয় জলপাইগুড়ির যুব মঞ্চ আয়োজনে নজর টানে। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বরাবরই এই পুজোর দর্শক টানার হাতিয়ার। বছর কয়েক আগে যুব মঞ্চের পুজো মণ্ডপে রশিদ খানও গান গেয়ে গিয়েছিলেন। এ বারেও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্য প্রতিযোগিতাও। এ বারে পুজোর থিমও জলপাইগুড়ি ঘেঁষা। একটি বজরার আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। পুজো কমিটির বিভিন্ন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু বসুর কথায়, ‘‘প্রবন্ধ বা বির্তকের বিষয় সচেতন ভাবেই বাছা হয়েছে। পুজো মানে সর্বস্তরের মানুষের সমাগম। সেই সমাগমেই আমাদের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।।’’ সেই সঙ্গে শুভেন্দুবাবুর প্রশ্ন, ‘‘কে বলতে পারে, হয়ত আমাদের প্রতিযোগিতার কোনও প্রবন্ধ থেকেই ভবিষ্যতে শহরের পর্যটন উন্নয়নের প্রস্তাব উঠে আসবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy