বিসর্জনের জন্য ব্যবস্থা নিতে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সরাসরি মেয়রকে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য এ ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্রের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন এ ভাবে তাঁর পদপর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। যদিও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
গত ১৭ অক্টোবর চিঠি দিলেও এখনও কোনও উত্তর মেয়র পাননি বলে জানান। মেয়র বলেন, ‘‘বর্তমানে নবান্নের সংস্কৃতি মন্ত্রী, সচিবরা কোনও উত্তর দেন না। আমার চিঠিরও হয়তো উত্তর মিলবে না।’’
ঘটনার সূত্রপাত, মহানন্দা ঘাট প্রতিমা নিয়ে গাড়ি যাতায়াতের সুবিধার জন্য লাগোয়া রেলের জমিতে একটি পাঁচিল না ভাঙা নিয়ে। ওই পাঁচিলের একাংশ ভেঙে দেওয়া হলে হিলকার্ট রোড দিয়ে প্রতিমা নিয়ে ঘাটে যে গাড়িগুলি যাবে সেগুলি রেলের জমি দিয়ে বর্ধমান রোড ধরে বেরিয়ে যেতে পারত। কিন্তু রেল অনুমতি না দেওযায় তা ভাঙা যায়নি। মেয়রের অভিযোগ, তা নিয়ে রেল এবং পুলিশ কমিশনারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শেষে রেলের তরফে মৌখিক অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ লিখিত অনুমতি ছাড়া তা ভাঙতে দেননি। সে জন্য বিসর্জন শেষ করতে অনেক সময় লেগেছে। অন্য দিকে মেয়রকে পুলিশ কমিশনার সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে মহানন্দা ঘাট ছাড়া অন্যত্র বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে, বিভিন্ন রাস্তা মেরামত করতে, আলো, পানীয় জলের ব্যবস্থা নিতে বলেন বলে অভিযোগ।
মেয়র বলেন, ‘‘পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমার কোনও ঝগড়া নেই। আশঙ্কা হচ্ছে কারও নির্দেশে তিনি এসব করছেন। যদি সত্যিই তা হয় তা দুর্ভাগ্যের। কারও নির্দেশ মেনে পুলিশ প্রশাসনের চলা উচিত নয়। এ ভাবে তিনি মেয়রের পর্যাদা ক্ষুন্ন করছেন। এর সঙ্গে শহরবাসীর সম্মান জড়িত।’’ মেয়রের দাবি, ‘‘পুলিশ কমিশনার চাইলে পুর কমিশনার বা পুর সচিবকে চিঠি দিতে পারতেন। সেটাই নিয়ম। তা না করে তিনি আমাকে সরাসরি চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। এটা নিয়মের মধ্যে পরে না।’’ তা ছাড়া মেয়র ফোন করলে পুলিশ কমিশনার ধরছেন না বলেও অভিযোগ।
অন্য দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের দাবিতে দুইটি প্রতিনিধি দল রাজ্যের মগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং পুর দফতরের সচিবের সঙ্গে দেখা করবেন। আরেকটি প্রতিনিধি দল উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবের সঙ্গে দেখা করবেন বলে মেয়র জানিয়েছেন। তিনি জানান, সমস্ত দলের কাউন্সিলরদেরকেই বিষয়টি জানানো হবে। বিরোধী দলনেতাকেও প্রতিনিধি দলে রাখা হবে। বিরোধী দলনেতা নান্টু পাল বলেন, ‘‘উনি আগে বিরোধীদের কথা শুনুন। বোর্ড মিটিংয়ে বিরোধীদের বক্তব্যকে প্রধান্য দিন। ওনার নির্দেশ মেনে আমরা প্রতিনিধি দলে যাব না। আমরা উন্নয়ন চাই। রাজ্যের মন্ত্রীদের আমাদের মতো করে আমরা জানাব।’’
নান্টুবাবুর অভিযোগ, বিসর্জন থেকে পার্কিং কোনও বিষয়েই বিরোধীদের কথা শোনা হয় না। আলোচনা করা হয় না। তা ছাড়া বিরোধীরা টাকা আনতে সাহায্য করবেন অথচ তাদের মতামত নিয়ে কাজ করা হবে না তা হতে পারে না।