গরম ভাতে মাছের ঝোল বাঙালি মাত্রেই প্রিয়। পছন্দসই মাছ পেতে সাধারণত ছুটতে হয় বাজারে। কিন্তু এখানে যেতে হবে দিঘিতে। সুযোগ রয়েছে নিজের হাতে মাছ ধরার। শারদীয় উৎসবের আগে পর্যটকদের এমন উপহারই এনে দিচ্ছে রাজ্য পর্যটন দফতর। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে আরণ্যক পর্যটক আবাস।
ডুয়ার্সেরে লাটাগুড়ি থেকে মাত্র ৫ কিমি দূরত্বে এই পর্যটক আবাসে রয়েছে ৮ বিঘা দিঘি, দিঘির ধারেই রয়েছে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা। রয়েছেন পাকা হাতের রাঁধুনিও। দু’বছর পরে দিঘিতে আবার মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আগামি ২১ অগস্ট থেকে ফি রবিবার দিঘিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধরা যাবে মাছ। মাছ ধরার জন্য একটি টিকিটের মূল্য হয়েছে এত হাজার টাকা। একটি টিকিটে দু’টি হুইল বড়শি ফেলা যাবে দিঘিতে। উত্তরবঙ্গের মৎস্য দফতরের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক রজত চক্রবর্তী জানান, বছর দুয়েক আগে যখন মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তখন এতটাই উন্মাদনা ছড়িয়েছিল যে সকলকে দিঘির পাড়ে জায়গা দিতে সমস্যা হয়েছিল। এবারে সেকারনেই আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে প্রতি রবিবার সর্বোচ্চ ২৫ জনকে টিকিট দেওয়া হবে।
আরণ্যকের ম্যানেজার পরিমল রায় জানান গত বুধবার জাল ফেলে মাছ দেখে ফের তা দিঘিতে ছাড়া হয়েছে। ৪-৫কেজি ওজনের রুই, কাতলা ও মৃগেল যেমন রয়েছে তেমনি বাটা, পোনা, মৌরলার মত ছোট মাছও রয়েছে। তিনি জানান, মাছের পরিমান এবার এতটাই বেশি যে সকলের ভাগ্যেই শিকে ছিড়বে। মাছ ধরা যাঁদের নেশা তাঁদের জন্যে মালবাজার শহর থেকে ১৪কিলোমিটার দূরের এই আরণ্যক ভবন বরাবরই অত্যন্ত পছন্দের জায়গা। ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিতে ফোনও করছেন অনেকেই। ৮টি ঘর বিশিষ্ট আরণ্যক ভবনের বুকিং এবার থেকে পুরোটাই অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। ঘরগুলির একরাত্রির ভাড়া ৬০০-৯০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দ্বিতল এই ভবনটির পিছনেই হাঁটাপথে রয়েছে কুমলাই নদী। নদী ও দিঘি সহযোগে নিরিবিলি আরণ্যক বরাবরই ডুয়ার্স ভ্রমণের সাশ্রয়ী স্থানগুলোর একটি। জঙ্গল, পাহাড় আর মাছের হাতছানিতে পুজোর আগে থেকেই ঘর বুকও করে ফেলেছেন অনেকেই।