মালদহের গৌড়ে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন খোদ সরকারি কর্তারা। মরসুম শুরু হওয়ার আগেই পর্যটন কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বিগ্ন পর্যটকেরা। এমনকী পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
পর্যটকদের অভিযোগ, গৌড় ঐতিহাসিক স্থান হলেও এখানে নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। যার ফলে দিনের বেলাতেই ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। পর্যটন কেন্দ্রে চুরির ঘটনায় মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কর্মাসের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘গৌড় মালদহ জেলার ঐতিহ্য। এখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং অন্য জেলা থেকেও পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন। তবে এখানে নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। সামনে শীতের মরসুমে এই পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকেরা ভিড় জমাবেন এই ঐতিহাসিক স্থানে। তাই আমাদের দাবি, এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক। এই বিষয়ে আমরা জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের দারস্থ হব।’’ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া জিনিসও উদ্ধার করেছে পুলিশ। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আর গৌড়ের নিরাপত্তার দাবিতে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
বিভিন্ন জেলা এমনকী বিদেশ থেকে সাধারণ মানুষও গৌড়ে ভিড় জমান। অন্য জেলা থেকে কাজের জন্য মালদহে আসলে কমবেশি সকলেই গৌড় দর্শনে যান। তেমনই ইংরেজবাজারের মহদিপুর পঞ্চায়েতের পিয়াসবাড়ি সংলগ্ন এলাকা সরকারি জমি পরিদর্শনে গিয়ে গৌড়ে যান ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হাটেবাজারে এক্সপ্রেসে করে কলকাতা থেকে মালদহে আসেন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর গোপাল রায়, সহকারি ডেপুটি ডিরেক্টর অরুণ কর, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সৌনব গুপ্ত। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দফতরের এক আলোচনা সভায় যোগ দিতে আসেন তাঁরা। সেই সঙ্গে ওইদিন দুপুর তিনটে নাগাদ ওই তিন আধিকারিক মালদহ জেলার ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কর্তা স্বপন কুমার রায়কে সঙ্গে নিয়ে ইংরেজবাজার থানার মহদীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের পিয়াসবাড়ি লাগুয়া একটি জমি পরিদর্শনে যান। জমি পরিদর্শনের পর সেই স্থান থেকে ৫০০ মিটার দুরে গৌড়ে ঘুরতে যান তাঁরা। সেই সময় গৌড়ের জাহাজ বাটি এলাকার কাছে আচমকা হাঁসুয়া নিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় চার দুষ্কৃতী চড়াও হয়। পরে আরও একজন যোগ দেয়।
ডেপুটি ডিরেক্টর গোপালবাবুর গলায় হাঁসুয়া ঠেকিয়ে তাঁদের কাছে থাকা সমস্ত কিছু দিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এরপরে নিজেরাই তল্লাশি চালিয়ে টাকার ব্যাগ, চারজনের চারটি মোবাইল এবং এক আধিকারিকের সোনার আংটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। গৌড় থেকে ফিরে গিয়ে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমে এদিন দুপুর বেলা পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বাড়ি মহদিপুরের বারোদুয়ারি এলাকায়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চারটি মোবাইল ফোন, সোনার আংটি এবং নগদ কয়েক হাজার টাকা। তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই বিষয়ে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের সহকারি ডেপুটি ডিরেক্টর অরুণ কর বলেন, ‘‘শুনেছি পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ও আমাদের ছিনতাই হওয়া জিনিসগুলিও উদ্ধার করেছে। তবে দিনের বেলা এমন ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগের। পুলিশ প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।’’ মালদহের জেলা শাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘‘পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে।’’