Advertisement
E-Paper

পরিস্থিতি দেখতে বাগরাকোট বাগানে যাচ্ছেন অধীর

বাগরাকোট সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক চা বাগানে অনাহার এবং অপুষ্টি প্রকট হচ্ছে আর এর থেকেই লম্বা হচ্ছে মৃতের তালিকা। এমনই অভিযোগ কংগ্রেসের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১৮ নভেম্বর ডুয়ার্সের মালবাজারে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সফরের আগেই বাগান ঘুরে গেলেন জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙ জেলার কংগ্রেস নেতারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৮
বাগরাকোট বাগানে কংগ্রেসের দল। ছবি: সব্যসাচী ঘোষ।

বাগরাকোট বাগানে কংগ্রেসের দল। ছবি: সব্যসাচী ঘোষ।

বাগরাকোট সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক চা বাগানে অনাহার এবং অপুষ্টি প্রকট হচ্ছে আর এর থেকেই লম্বা হচ্ছে মৃতের তালিকা। এমনই অভিযোগ কংগ্রেসের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১৮ নভেম্বর ডুয়ার্সের মালবাজারে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সফরের আগেই বাগান ঘুরে গেলেন জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙ জেলার কংগ্রেস নেতারা।

বৃহস্পতিবার ডানকান গোষ্ঠীর বাগরাকোট চা বাগানে আসেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ডুয়ার্সের বন্ধ এবং অচলাবস্থা চলতে থাকা চা বাগানগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এই সফরের আগে বাগরাকোট চা বাগানের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রদেশ নেতৃত্বকে রিপোর্ট পাঠানো হবে বলেই এদিনের পরিদর্শন বলে জানান কংগ্রেস নেতারা। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার এদিন বলেন, ‘‘অধীর চৌধুরী দু’ থেকে তিনদিনের জন্য ডুয়ার্সে আসছেন। এই সময়ে ডুয়ার্সের বিভিন্ন বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের দুরাবস্থা যেমন তিনি খতিয়ে দেখবেন তেমনি মালবাজারে বাগানের সমস্যা নিয়ে একটি কনভেনশনও করবেন।’’

এদিন ফোনে অধীর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘‘ চা শ্রমিকেরা যাতে অন্তত বাঁচতে পারে সেটুকুও রাজ্য সরকার যেখানে নিশ্চিত করতে পারছে না সেখানে বাগানের জমি অধিগ্রহণের কথা বলাটা ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজ্য সরকারের অধীনে তো উত্তরবঙ্গের বেশকিছু চা বাগান ছিল সেগুলো তো সরকার বিক্রী করে দিয়েছে তাহলে রাজ্য সরকার অধিগ্রহণের কথা কোন মুখে বলছে। আমি সব খতিয়ে দেখে লোকসভায় বিষয়টি তুলব।’’ ২০০১ থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে একহাজারেরও বেশি চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন অধীর বাবু। চা শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলটি প্রথমে বাগানের হাসপাতালে যায়। সেখানে বহির্বিভাগে রোগী দেখার কাজ খতিয়ে দেখে। গড়ে প্রতিদিন দেড়শোর বেশি শ্রমিক এবং শ্রমিক পরিবারের সদস্যেরা নানা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসছেন বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান। এদের মধ্যে অনেকেই রক্তাল্পতায় আক্রান্ত বলে জানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চিকিৎসক মলয় ঘোষ। বিধায়ক জোশেফ মুন্ডা এদিন অভিযোগের সুরে বলেন,‘‘ মুখ্যমন্ত্রী মালবাজারে আসলেও বাগরাকোটে আসতে পারলেন না। চা শ্রমিকদের দুঃখ ভাগ করে নিতে চাইলে তিনি তো বাগরাকোট চা বাগানে আসতেই পারতেন। কিন্তু উনি তাও করলেন না।’’

এদিকে কংগ্রেস নেতাদের পরিদর্শনের পরেই এদিন বাগরাকোট চা বাগানে পৌঁছান আদিবাসী বিকাশ পরিষদের বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা জন বারলা। দুঃস্থ চা শ্রমিকদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চা বাগানের সমস্যার কথা জানাতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রীর দেখা মেলে নি বলে জানান তাঁরা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy