Advertisement
E-Paper

বিজেপির অনশন ঘিরে বিতর্ক

উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার দাবিতে আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রবীন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের দাবিতে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি শুভ্র রায়চৌধুরীর আমরণ অনশন কর্মসূচি সেই আন্দোলনেরই প্রথম ধাপ বলে দাবি রবীন্দ্রনাথবাবুর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৫ ০১:৫৪

উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার দাবিতে আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রবীন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের দাবিতে বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি শুভ্র রায়চৌধুরীর আমরণ অনশন কর্মসূচি সেই আন্দোলনেরই প্রথম ধাপ বলে দাবি রবীন্দ্রনাথবাবুর।

রায়গঞ্জ অথবা উত্তরবঙ্গের কোথাও এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে দলের জেলা কার্যালয় সংলগ্ন রায়গঞ্জের মহাত্মা গাঁধী রোডের ধারে মঞ্চ বেঁধে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শুভ্রবাবু। বুধবার দলের রাজ্য কমিটির তরফে ওই অনশন মঞ্চে গিয়ে শুভ্রবাবুর সঙ্গে কথা বলেন রবীন্দ্রবাবু ও গত লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপির পরাজিত প্রার্থী অভিনেতা নিমু ভৌমিক। সেখানে রবীন্দ্রনাথবাবু অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার প্রায় সাত দশক পেরোতে চললেও উত্তরবঙ্গের কোনও উন্নয়ন হয়নি। তাই সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আলাদা রাজ্য করার দাবিতে খুব শীঘ্রই উত্তরবঙ্গের সাত জেলায় দলের তরফে টানা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। শুভ্রবাবুর আমরণ অনশন ওই আন্দোলনের প্রথম ধাপ।

তবে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে সরকারি জায়গায় মঞ্চ বেঁধে মাইক বাজিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির জেলা সভাপতি শুভ্রবাবুর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রের খবর, কোনও আন্দোলনের জন্য মঞ্চ তৈরি করতে ও মাইক বাজাতে হলে মহকুমাশাসকের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে, অনশন করতে হলেও মহকুমাশাসক বা জেলাশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়াও আন্দোলন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পৃথক অনুমতি নিতে হয় রাজনৈতিক দলগুলিকে।

রায়গঞ্জ থানার আইসি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পুলিশ ও প্রশাসন শুভ্রবাবু বা বিজেপিকে মঞ্চ তৈরি, মাইক বাজানো ও অনশনের অনুমতি দেয়নি। পুলিশ আন্দোলনের ছবি সংগ্রহ করে শুভ্রবাবুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রায়গঞ্জ আদালতে একটি রিপোর্ট পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’’

শুভ্রবাবুর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘পুলিশ ও প্রশাসন তৃণমূলের পক্ষে কথা বলে থাকে। তাই লিখিত ভাবে আবেদন করলেও অনশন আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’’

জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএমকে সুবিধা করে দিতে বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিমূলক আন্দোলন শুরু করেছে। বেআইনি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তের অভিযোগ, ‘‘বেআইনি ভাবে কোনও আন্দোলন করলে তা দেখার দায়িত্ব পুলিশ ও প্রশাসনের। বিজেপি নেতাদের আন্দোলনের নামে ভণ্ডামি করা মানায় না।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পালের কটাক্ষ, নির্বাচনের আগে এইমস নিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর আন্দোলন শুরু করেছে বিজেপি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy