E-Paper

শহরের সাত কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ‘কারিগর’ মুসলিম ভোট

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৫১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কলকাতা পুর এলাকার ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সেই কেন্দ্রগুলি এন্টালি, চৌরঙ্গি, বেলেঘাটা, কসবা, বালিগঞ্জ, কলকাতা বন্দর এবং মেটিয়াবুরুজ। এদের মধ্যে কেবল মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার ছ’টি ওয়ার্ডের সঙ্গে মহেশতলা পুরসভার ন’টা ওয়ার্ড মিশে গিয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের সাত’টি জেতা বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের মূল কারিগর মুসলিম ভোট।

কলকাতা পুরসভার ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে জয়ী তৃণমূলের সন্দীপন সাহা। পাঁচটি ওয়ার্ডের মধ্যে কেবল ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেশির ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া বাকি চারটিতে লিড পেয়েছেন সন্দীপন। চৌরঙ্গি বিধানসভার অধীনে রয়েছে ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ এবং ৬২ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক সাতটি ওয়ার্ডে (৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২) লিড পেয়েছেন। যে চারটি ওয়ার্ডে সন্তোষ পরাজিত হয়েছেন, তার মধ্যে সর্বাধিক কম ভোট পেয়েছেন রিপন স্ট্রিট, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এলাকার ৬২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। যেখানে মূলত মুসলিম বসবাস। বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে মোট তেইশ হাজার ভোটের মধ্যে তৃণমূল একাই পেয়েছে একুশ হাজার, মাত্র পাঁচশো ভোট পেয়েছে বিজেপি!

বেলেঘাটা বিধানসভার জয়ী প্রার্থী কুণাল ঘোষ সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন ২৮, ২৯, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এই তিনটি ওয়ার্ড রাজাবাজারে পড়ে, যা মুসলমান অধ্যুষিত। কুণাল হেরেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়। কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে কেবল ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বাধিক লিড (একান্ন হাজার ভোট) পেয়ে বাইশ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের জাভেদ আহমেদ খান। উল্লেখ্য তপসিয়া, পিকনিক গার্ডেন নিয়ে গঠিত ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড, মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। জাভেদ কসবা বিধানসভার অধীনে থাকা বাকি পাঁচটি ওয়ার্ডে (৯১, ৯২, ৬৭, ১০৭ ও ১০৮) পরাজিত হয়েছেন।

বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ৬০, ৬১, ৬৪, ৬৫, ৬৮, ৬৯ ও ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে বালিগঞ্জ বিধানসভা। এখানকার চারটি ওয়ার্ডে (৬০, ৬১, ৬৪ ও ৬৫) লিড পেয়েছেন শোভনদেব। এই ওয়ার্ডগুলি পার্ক সার্কাস, কড়েয়া এলাকার অধীনে। আবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি ওয়ার্ডে (৭৬, ৭৯ ও ৮০) পিছিয়ে। এই তিনটি ওয়ার্ডে হিন্দুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ৭৫, ৭৮, ১৩৩, ১৩৪ ও ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে লিড পেয়ে ৫৬, ৪০০ ভোটে জয়ীহয়েছেন ফিরহাদ। এই পাঁচটি ওয়ার্ডে বেশির ভাগ মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস।

মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে কলকাতা পুরসভার ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮, ১৩৯, ১৪০ ও ১৪১ নম্বর ওয়ার্ড। যার প্রত্যেকটিতেই মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। পাশাপাশি ওই বিধানসভার মহেশতলার ন’টি ওয়ার্ডেও মুসলমানের বসবাস অপেক্ষাকৃত বেশি। ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের আব্দুল খালেক মোল্লা সাতাশি হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।

বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভায় পরাজিত রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় একমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে (একবালপুর) বাইশ হাজার লিড পেয়েছেন।

কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজিত কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। এখানকার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, এই কেন্দ্রের অধীনে এক ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে কেবল লিড পেয়েছেন অতীন। পুরসভার এই দু’টি ওয়ার্ডে রয়েছে শহরের বৃহৎ বস্তি কাশীপুর ও বেলগাছিয়া। যেখানে মূলত মুসলিমদের বসবাস।

কলকাতা পুর এলাকার যে বাকি দশটি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে বিজেপি, সে সব থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ— হিন্দু ভোটের বেশির ভাগটাই পদ্মফুলে চলে গিয়েছে। মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ঘাসফুলে ঝুঁকেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

muslim vote

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy