Advertisement
E-Paper

বাজারের হাল ফেরাতে পুরসভার পদক্ষেপ দাবি

শহরের একাধিক বাজারে বেশ কিছু দোকান বন্ধ। সেগুলি যাঁদের দখলে রয়েছে কেউ তা খোলেন না কেন সেটাই রহস্য। কিছু আবার সরাসরি পুরসভার দখলেই রয়েছে। অথচ পুরসভা কেন জেনেবুঝেও পদক্ষেপ করে না সেটাই ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন না। দিনবাজার, বয়েলখানা পৌরবাজার এবং মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে পুরসভার তৈরি ভবনে এমন অনেক দোকান রয়েছে।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৫১
জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ার বৌবাজারে অসমাপ্ত শেড। —নিজস্ব চিত্র।

জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ার বৌবাজারে অসমাপ্ত শেড। —নিজস্ব চিত্র।

শহরের একাধিক বাজারে বেশ কিছু দোকান বন্ধ। সেগুলি যাঁদের দখলে রয়েছে কেউ তা খোলেন না কেন সেটাই রহস্য। কিছু আবার সরাসরি পুরসভার দখলেই রয়েছে। অথচ পুরসভা কেন জেনেবুঝেও পদক্ষেপ করে না সেটাই ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন না। দিনবাজার, বয়েলখানা পৌরবাজার এবং মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে পুরসভার তৈরি ভবনে এমন অনেক দোকান রয়েছে।

মাসকলাইবাড়ি বাজারে পুরসভা থেকে কর আদায় করা হয় না। কোনও পরিষেবাও দেওয়া হয় না। ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৬ সালের ২৩ জানুয়ারি পুরসভার পক্ষ থেকে বাজার বসানো হয়। পুরসভা রোজ ৫ টাকা করে কর নিত ব্যবসায়ীদের থেকে। ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ট্রেড লাইসেন্স চাইলেও পাননি। পরিষেবাও মেলে না। সেখানে পুরসভার তৈরি ভবনও ঠিকঠাক ব্যবহার করা হচ্ছে না।

জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যাল মার্কেটটি ১৯৫৭-৫৮ সালে গড়ে ওঠে আগে। একটা সময়ে ওই বাজারের নাম ছিল রিফিউজি মার্কেট। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য বাজারে তখন টিনের শেড তৈরি হয়। আশির দশকে এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় ৮৫টি দোকানঘর তৈরি হয়। মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা শেডঘর তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন সব্জি, মাছ এবং মাংসের জন্য শেডের নিচে বসার ব্যবস্থা করা হয়নি। সব্জি এবং মাংসের ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র বসেন বলে অভিযোগ। বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, “আগে কিছুটা পুরসভার পরিষেবা পাওয়া যেত। এখন অনিয়মিত বাজারের মধ্যেই বাজারের ময়লা ফেলার জায়গা সব সময় দুর্গন্ধ বার হয়। পুরসভাকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বাজারের রাস্তাঘাটও দীর্ঘদিন সংস্কার হয় না।”

ষাটের দশকে গড়ে ওঠে পান্ডাপাড়া বৌবাজার এই বাজারের একটা অংশে বাঁশের বাজার বসত। অন্য অংশে রোজের বাজার বসত বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ওই বাজারে পুরসভার কোনও পরিষেবা নেই বলে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাজারে কোনও শৌচাগার নেই। পথবাতি নেই। বাজারের ব্যবসায়ীদের সরিয়ে ভবন তৈরির প্রস্তুতি হয়। কিন্তু ভবন অসমাপ্ত হয়ে রয়েছে। বৌবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, “পুরসভার চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দেন যে ছয় মাসের মধ্যে আমাদের পাকা শেডের নিচে জায়গা করে দেবেন। তার পর ছয় বছর কেটে গিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। বর্ষায় নালার জল উপচে ভাসে এলাকা।”

জলপাইগুড়ি শহরের আরও একটি বাজার আছে। সেটির নাম স্টেশন বাজার। সেখানে রেল মন্ত্রকের তিন একর জায়গার মধ্যে বাজার বসে। এই বাজারটি পুরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ১৯৬৮ সালের পর থেকে বাজারটি সেখানে বসে। স্টেশনবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিত্‌ সাহা বলেন, “বাজারের মোট ৭টি স্থায়ী দোকান রেল মন্ত্রকের কাছ থেকে লিজে নেওয়া আছে। বাকি অংশটি পুরসভা রেলের কাছ থেকে লিজ নেবে বলে শুনেছি। এখন পর্যন্ত কী হয়েছে জানি না। আমরা পুরসভার কাছে আবেদন করেছি। বাজারের জায়গাটি রেলের কাছ থেকে নিয়ে বাজারের উন্নতিসাধন করা হোক।”

পুরসভা সূত্রের দাবি, জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজারের উন্নয়নের জন্য পুরসভা প্রচুর পরিকল্পনা হয়েছে। বাস্তবে কাজের কাজ হয়নি। এক সময় দিনবাজারের টিনশেডের উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে পুরসভা। ব্যবসায়ীরা রাজি থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নিয় তার পর পিপিপি মডেলে দিনবাজারের উন্নয়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তাও বাস্তবায়িত হয়নি।

জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, “দিনবাজার মার্কেট জলপাইগুড়ির মাদার মার্কেট। বাজারটির উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে বসব। মিউনিসিপ্যাল মার্কেটটি ঢেলে সাজা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আগামী মাস থেকে পান্ডাপাড়া বৌবাজার মার্কেটের শেডঘরের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কাজে হাত দেওয়া হবে।” জলপাইগুড়ি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেশন বাজারের জন্য রেলের জমি লিজ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা এগিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া কবে সম্পূর্ণ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

(শেষ)

কেমন লাগছে আমার শহর?
নিজের শহর নিয়ে আরও কিছু বলার থাকলে আমাদের জানান।
ই-মেল পাঠান district@abp.in-এ।
Subject-এ
লিখুন ‘আমার শহর-শহরের নাম’।
অথবা চিঠি পাঠান, ‘আমার শহর-শহরের নাম’,
আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৩৬/৮৯ চার্চ রোড, শিলিগুড়ি ৭৩৪০০১

amar shohor my city jalpaiguri raja chattopadhyay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy