সাবেক ভারতীয় ছিটমহল দহলা খাগড়াবাড়ি থেকে অপশন দিয়ে মূল ভূখণ্ডে এসেছিলেন ঈশ্বরনারায়ণ রায় (৭৫)। হলদিবাড়ি ত্রাণ শিবিরে তাঁর পরিবারের ৯ সদস্যের জন্য জুটেছিল একটি ছোট টিনের ঘর, দুটো মাথার বালিশ আর দুটো কম্বল। প্রচণ্ড ঠান্ডায় টিনের ঘরে কয়েকটা রাত কাটিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঈশ্বরবাবু। ঘরে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় খড় কিনে দাওয়ায় বিছিয়ে তার ওপর কম্বল পেতে শুয়েছিলেন তিনি। বুধবার ভোরে তাঁর নিথর দেহ পান পরিবার। হলদিবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ, এর পরে মৃতদেহ সৎকার করার খরচও দিতে রাজি হয়নি প্রশাসন।
নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির সন্বয়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “প্রশাসন ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে।” যদিও প্রশাসনের দাবি, ঈশ্বরবাবু বাধর্ক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হৃদরোগ, কিডনি, রক্তাল্পতাজনিত নানা সমস্যা ছিল। তার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকেরা জানান। কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথন বলেন, “শিবিরে আসার দিন থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে শিবিরেও স্ট্রেচারে করে আনা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।”