দেশ বিদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈঠক, মত আদান প্রদান, ব্যবসায় বিনিয়োগ বা বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে দেশের পর্যটন ব্যবসায় অনেক দিন আগেই শুরু হয়েছে ট্রাভেল মার্ট। রাজ্যের পর্যটন প্রসারে গুজরাত, কেরল, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে অনেক দিন আগেই তা শুরু হয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় সরকারও উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক ট্রাভেল মার্ট করে চলেছে। কিন্তু বেসরকারি উদ্যোগে এ রাজ্যে একাধিক পর্যটন মেলা হলেও পর্যটন নিয়ে এমন অনুষ্ঠান হয়নি।
তবে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নতুন বছরের শুরুতেই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্তরে ‘ট্রাভেল মার্ট’ হতে চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারেই তা হতে চলছে শিলিগুড়ি শহরে। ‘বেঙ্গল ট্রাভেল মার্ট-২০১৬’ নামের মার্টটি আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি অবধি চলবে।
সরকারি সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ভুটান সফরের সময় তাঁর সঙ্গে সে দেশে গিয়েছিলেন উত্তরের সবচেয়ে বড় পর্যটন সংগঠন ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের (এতোয়া) এক প্রতিনিধি দল। তাঁরাই মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যে এই ধরনের পর্যটনের মার্ট করার প্রস্তাব দেন। সেই মতোই মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব এবং রাজ্যের পর্য়টন সচিব অজিতরঞ্জন বর্ধনকে বছরের শুরুতেই তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এতোয়ার সহযোগিতায় পর্যটন দফতর এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এক সঙ্গে এই ট্রাভেল মার্টের আয়োজন করবে। আপাতত বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা।
শুক্রবার বিকেলে ট্রাভেল মার্টের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় এক দফায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী গৌতমবাবু ছাড়াও পর্যটন দফতরের যুগ্ম সচিব (উত্তরবঙ্গ) সুনীল অগ্রবাল, এতোয়ার পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন। গৌতমবাবু জানান, ভুটান, নেপাল, বাংলাদেশ ছাড়াও গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা পর্যটন দফতর অংশ নেবে।
আরও কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে কথা চলছে। এ ছাড়া ১০০টি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্য়টন সংস্থা আসবে। ইনভেস্টার্স মিট, পর্যটন ব্যবসা, সেমিনার ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রী গৌতমবাবু বলেন, ‘‘পর্যটন নিয়ে এত বড় মাপের কোনও অনুষ্ঠান উত্তরবঙ্গে এখনও হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ফেব্রুয়ারি মাসে তা সরকারি অতিথি নিবাস মৈনাক টুরিস্ট লজ জুড়ে হবে। এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ এতোয়ার কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল জানান, এই ধরণের মার্ট যে কোনও রাজ্যের পযর্টন ব্যবসায় উন্নতি সাধন করে।
তবে মূলত মার্টগুলি দেশ বিদেশের পযর্টন ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদানের মাধ্যমে হয়। কিন্তু শিলিগুড়িতে বাসিন্দাদের জন্যও একদিন খোলা থাকবে। সরকারি, বেসরকারি পর্যটন পর্ষদগুলি ছাড়াও হোটেল-রিসর্ট, বিমান সংস্থা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, টেলিকম ছাড়াও তথ্য প্রযুক্তির মতো সংস্থাগুলিও এতে অংশ নেবে।