মঙ্গলবার থেকে শুরু হল মালদহের ঐতিহ্যবাহী রামকেলি মেলা। এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যান পালন দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী,অতিরিক্ত দুই জেলা শাসক দেবতোষ মন্ডল,অমল কান্তি রায়, মহাকুমা শাসক নন্দিনী সরস্বতী সহ প্রশাসনিক কর্তারা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এই মেলা। প্রথম দিন বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। সাধারণ মানুষের সুবিধের জন্য সারা রাত যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেলায় পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করা হয়েছে রোগী সহায়তা কেন্দ্র। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু বাবু বলেন, ‘‘জেলার পাশাপাশি ভিন জেলা থেকেও মানুষ ভিড় করেন। তাঁদের যাতে অসুবিধে না হয় তার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’
কথিত রয়েছে,৫০১ বছর আগে মহাপ্রভু চৈতন্যের আবির্ভাব হয়েছিল ইংরেজবাজারের মহদিপুরের রামকেলিতে। এই দিনে স্থানীয় কিছু মানুষ মহাপ্রভুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সেই থেকে এই দিনেই রামকেলি মেলা শুরুর প্রথা। এখানে মহাপ্রভুর একজোড়া পাদুকাও রয়েছে। সেই পাদুকা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। এছাড়া রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে রামকেলিতে নিম গাছের তলায় শ্রীচৈতন্যের একটি মুর্তি নির্মাণ করা হয়। ফলে মেলাটি মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই মেলায় জেলার পাশাপাশি ঝাড়খন্ড, বিহার থেকেও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষেরা হাজির হন। মেলা ঘিরে চারদিন ধরে চলবে গম্ভীরা গান,বাউল উৎসব। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য থাকছে পুলিশ সহয়তা কেন্দ্রও। অতিরিক্ত জেলা শাসক অমল বাবু বলেন, ‘‘ঐতিহাসিক এই মেলাটি যাতে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।’’