Advertisement
E-Paper

মিশ্র সাড়া প্রধান বিচারপতির

ভক্তিনগর থানার মামলা জলপাইগুড়ির বদলে শিলিগুড়ি আদালতের আওতায় আনার ব্যাপারে হাইকোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৫ ০২:০৬
সেমিনারের ফাঁকে মঞ্জুলাদেবী ও জয়মাল্যবাবু। নিজস্ব চিত্র।

সেমিনারের ফাঁকে মঞ্জুলাদেবী ও জয়মাল্যবাবু। নিজস্ব চিত্র।

ভক্তিনগর থানার মামলা জলপাইগুড়ির বদলে শিলিগুড়ি আদালতের আওতায় আনার ব্যাপারে হাইকোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর। শনিবার শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে শিলিগুড়ি আদালত চত্বরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। সেখানেই প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘ভক্তিনগর থানার মামলাগুলি শিলিগুড়িতে আনার ব্যাপারে কিছু সমস্যা রয়েছে। যেহেতু দু’জেলার বিষয় জড়িত রয়েছে, তাই রাজ্য সরকারকেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে হাইকোর্টের কাছে সুপারিশ করতে হবে। তাহলেই আমরা বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করব। হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ ব্যপারে কিছু করবে না।’’ তবে কোনও বিষয়ে আইনজীবীদের স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অবশ্য আশার আলো দেখান। তিনি বলেন, ‘‘কলকাতার আলিপুর আদালতের ক্ষেত্রেও কলকাতা পুলিশের দায়ের করা মামলা ও রাজ্য পুলিশের মামলার বিচার হয়। তাই শিলিগুড়িতে ভক্তিনগর থানার মামলাগুলির বিচারের আইনত কোনও বাধাও নেই।’’ বিষয়টি নিয়ে এখনই নিরাশ হতে রাজি নন শিলিগুড়ির আইনজীবীরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন দে সব রকম পদক্ষেপ করতে চান বলে জানান। এমনকী দ্রুত বিষয়টি কার্যকর করার জন্য আন্দোলনে নামতেও তাঁরা রাজি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘‘কয়েকদিনের মধ্যে শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবীদের একটা প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে এ বিষয়ে দরবার করতে যাবেন। আমরা আশাবাদী দ্রুত সমাধান সূত্র বের হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের নিরাশ করবেন না বলেও মনে করছেন তিনি।

Advertisement

এদিন তাঁরা কথা বলেন আইনজীবীদের সঙ্গেও। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। মূল দাবি ছিল, শিলিগুড়ি আদালতকে দ্রুত মেট্রোপলিটন আদালত হিসেবে ঘোষণা করা, ভক্তিনগর থানার সমস্ত মামলা শিলিগুড়ি আদালতের আওতায় নিয়ে আসা, পকসো, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত মামলা ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত মামলাগুলি দার্জিলিংয়ের সঙ্গে শিলিগুড়ি আদালতেও বিচারের ব্যবস্থা করা। বাকিগুলি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেও ভক্তিনগর থানার মামলার ব্যপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানান প্রধান বিচারপতি। শিলিগুড়ি আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ হয়ে গেলেই তাকে মেট্রোপলিটন আদালতে পরিণত করতে বেশি সময় লাগবে না বলে জানান বিচারপতিরা। পকসো ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত শিলিগুড়িতেও বিচার শুরু করার নির্দেশ পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত মামলাগুলি এখনই না হলেও অদূর ভবিষ্যতে সেগুলির বিচার চালু করার ব্যপারে সদর্থক মনোভাব দেখান প্রধান বিচারপতি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy