মহিলা কলেজের সোশ্যালে ঢুকে মদ্যপ অবস্থায় অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে জলপাইগুড়ির প্রসন্নদেব মহিলা কলেজে এই ঘটনার পরে অস্বস্তিতে পড়েছে টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদও। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরব হয়েছেন সংসদের সাংস্কৃতিক সচিব-সহ একাধিক ছাত্র প্রতিনিধি। ওই টিএমসিপি নেতা, দেবল ঘোষের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ শান্তি ছেত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’
রাতেই ঘটনার খবর পৌঁছেছে শিলিগুড়িতে থাকা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও। ছাত্রীরা তাঁর কাছে দোষীদের প্রতি কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। শহরের ক্লাব রোডের এই কলেজের সোশ্যালে এ দিন কেবল ছাত্রীদেরই প্রবেশাধিকার ছিল। তা না মেনেই দেবল জোর করে কলেজে ঢোকেন বলে অভিযোগ। ছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজের এক নেত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাদেই একাধিক পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে কলেজে ঢোকেন দেবল। কলেজে গিয়েই তিনি ইউনিয়ন রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। উপস্থিত ছাত্রীরা বাধা দিলে, দেবল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।
ছাত্রীদের দাবি, দেবল মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সমবেত প্রতিবাদের মুখে এরপর দেবল কলেজ ছেড়ে চলে যান। ঘটনার কথা অস্বীকার করে দেবল দাবি করেন, ‘‘রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমার এই অনুষ্ঠানে ঢোকার
প্রবেশাধিকার আছে।’’
তবে ঘটনার কথা জেনেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছেন জেলা টিএমসিপি নেতৃত্ব। সংগঠনের জেলা সভাপতি অভিজিৎ সিংহ জানান, কলেজের ছাত্রীদের থেকে অভিযোগ পেয়েই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।’’
বিরোধীদের অবশ্য বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনে একাধিক ঘটনায় শাসক দলের ভাবমূর্তি খারাপ হওয়াতেই বাধ্য হয়ে তৎপর হয়েছে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষাঙ্গনে অভব্যতা নিয়ে বরাবরই নরম মনোভাব দেখিয়েছে শাসক দল। রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে সম্প্রতি ফালাকাটা কলেজ—সব ঘটনায় অভিযুক্তদের আড়াল করার জন্য আঙুল উঠেছে তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে।
বিরোধীরা বলছেন, ‘‘এর আগে ফালাকাটা কলেজে টিএমসিপি পরিচালিত অনুষ্ঠানে এসে অভিনেত্রী শুভশ্রী হেনস্থার অভিযোগ তুললেও সেখানে সংগঠনের কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি দল। তার জেরে রাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।’’
তবে বিধানসভা ভোট যখন আসন্ন, তখন উল্টো সুর দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেত্রীর গলায়। তিনি সম্প্রতি বলেন, ছোট ছোট ঘটনা রাজনীতির জন্য বড় আকার নেয়। বিরোধীদের বক্তব্য, সে কারণে জলপাইগুড়িতে দ্রুত পদক্ষেপে শাসক দল বাধ্য হয়েছে।