Advertisement
E-Paper

রামসাই থেকে জিপসি সাফারি চালুর দাবি

লাটাগুড়ি এবং মূর্তি মূলত এই দুই এলাকাতেই গরুমারার জঙ্গল নির্ভর পর্যটন সীমাবদ্ধ হয়ে ওঠায় পর্যটনের আরও নতুন কেন্দ্র ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি এবং প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘ দিনের। ময়নাগুড়ি ব্লকের গরুমারার দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে রামসাই। জলঢাকার বিস্তৃত নির্জনতা আর গরুমারার ঘাসবন রামসাইকে আলাদা পরিচিতিও দিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০১৫ ০২:১৬
এই পথ দিয়েই কার সাফারির দাবি উঠেছে। —নিজস্ব চিত্র।

এই পথ দিয়েই কার সাফারির দাবি উঠেছে। —নিজস্ব চিত্র।

লাটাগুড়ি এবং মূর্তি মূলত এই দুই এলাকাতেই গরুমারার জঙ্গল নির্ভর পর্যটন সীমাবদ্ধ হয়ে ওঠায় পর্যটনের আরও নতুন কেন্দ্র ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি এবং প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘ দিনের। ময়নাগুড়ি ব্লকের গরুমারার দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে রামসাই। জলঢাকার বিস্তৃত নির্জনতা আর গরুমারার ঘাসবন রামসাইকে আলাদা পরিচিতিও দিয়েছে। রয়েছে প্রজাপতি পার্কও। শীতে পরিযায়ী পাখিদের মেলা বসে যায় এই এলাকায়। সেই সঙ্গে রামসাই লাগোয়া কালীপুর ইকো রিসর্ট, রাইনো ক্যাম্পের মতো বন দফতরের বনবাংলোগুলোতে থাকলে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে গরুমারায় হাতি সাফারির সুযোগও মেলে। আছে বেশ কিছু বেসরকারি রিসর্টও।

কিন্তু এত সবের পরেও রামসাই সর্বদাই যেন লাটাগুড়ির ওপর নির্ভরশীল। লাটাগুড়ি থেকে যে ক’জন পর্যটক রামসাই লাগোয়া মেদলা নজরমিনারে বেড়াতে আসেন বা বনবাংলোগুলোতে থাকতে আসেন, তা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হয় তাঁদের। কিন্তু গরুমারামুখী জিপসি সাফারি যে ভাবে লাটাগুড়ি থেকে বিভিন্ন রুটে রয়েছে সেই ভাবে যদি রামসাই থেকেও একই ভাবে যাত্রাপ্রসাদ, চাপড়ামারি, চন্দ্রচূড়ের মতো নজরমিনারগুলোর উদ্দেশে জিপসি সাফারি শুরু হত তাহলে অনেকেই রামসাইতে রাত্রিবাসের কথা ভাবতেন। লাটাগুড়ি, চাপড়ামারিমুখী জিপসি সাফারি শুরু হলে এলাকার আর্থিক পরিস্থিতিও বদলাবে বলেই দাবি এলাকার বাসিন্দা তথা জনপ্রতিনিধিদের। এ বারে তাই রামসাই থেকে লাটাগুড়ির জঙ্গলের পথে জিপসি সাফারি চালু করতেই কার্যত জোট বাঁধতে চলেছে রামসাই।

রামসাই এলাকার বাসিন্দা পরিমল দত্ত, মানিক সরকার, দীপক রায়, কমল দাসদের কথায় পর্যটকেরা রামসাইতে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু জিপসি সাফারি চালু না থাকায় অনেকেই উৎসাহ হারান। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুভাষ বসুর কথায়, ‘‘রামসাইয়ের পর্যটন সম্ভাবনা বিপুল। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে নদীর পাড় বাঁধিয়ে সৌন্দর্য্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। লাটাগুড়ি থেকে যখন মেদলা নজরমিনারে পর্যটকেরা আসছেন, তখন তো জিপসি এলাকায় ঢুকছে। তা হলে লাটাগুড়ি চাপড়ামারিমুখী জিপসি কেন চলবে না সেটা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এটা নিয়ে আমরা এবারে সরব হব।’’ রামসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভূপেন রায়ও একই দাবি জানান।

ময়নাগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী উজ্জল শীল, ছোট গাড়ির চালক রতন কুণ্ডুদের কথায়, ‘‘রামসাই থেকে এক দিকে যেমন গরুমারার জঙ্গল দেখতে পারবেন পর্যটকেরা। তেমনই জল্পেশ, জটিলেশ্বর মন্দির, তিনবিঘার মতো পর্যটন কেন্দ্রও সহজে ঘুরে আসা যায়। জিপসি সাফারি শুরু হলে পর্যটকেরা রাত্রিবাস শুরু করবেন। এর ফলে পর্যটন ব্যবসার কার্যত নতুন দরজাই খুলবে।’’ ময়নাগুড়ির ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ রায়ও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই বনমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। বনমন্ত্রী এলাকা ঘুরে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্ত দেব অধিকারী বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে বনাধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে বনমন্ত্রীরও দ্বারস্থ হব।’’ লাটাগুড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে রামসাইতেও যাতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে, তার জন্যে কার্যত সব মহলকেই উদ্যোগী হতে দেখে আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকার বাসিন্দারাও।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy